ঢাকারবিবার , ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য

জোরালো হচ্ছে গুঞ্জন/ রাজনীতির মোড়কে ইউনূস

  • অনলাইন ডেস্ক

    সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৩, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ

জোরালো হচ্ছে গুঞ্জন/

আইনি পদক্ষেপ, আন্তর্জাতিক মহলের প্রকাশ্য তৎপরতা এবং রাজনৈতিক বিতর্ক—সবমিলিয়ে জাতীয় নির্বাচনের আগে আবারও আলোচনায় নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মাসখানেক ধরেই দেশে ও বিদেশে তাকে নিয়ে একের পর এক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চলছে। ফলে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি অবস্থান, মার্কিন ভিসা নীতি, মানবাধিকার, দুর্নীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মতো ইস্যু ছাপিয়ে ড. ইউনূসকে ঘিরে জনমনে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

এসবের মধ্যে বিএনপির আন্দোলনও অনেকটা চাপা পড়ে গেছে। ভোটের আগে ড. ইউনূসের এমন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠাকে অনেকেই স্বাভাবিক ঘটনা মনে করছেন না। এর পেছনে কোনো রহস্য আছে বলে তাদের ধারণা। সবমিলিয়ে দেশের রাজনীতিতে এখন ভেতরে ভেতরে ‘ইউনূস আতঙ্ক’ বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

ঘটনার সূত্রপাত ড. ইউনূস পরিচালিত একাধিক প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের মামলা করার মধ্য দিয়ে। অভিযোগ, নোবেলজয়ী ইউনূস তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেছেন। তবে এসব মামলার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দেখছেন তার দেশ-বিদেশের ‘শুভাকাঙ্ক্ষীরা’। এ কারণেই একের পর এক বিবৃতি দিয়ে এসব মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে বিদেশিদের এসব তৎপরতাকে উদ্দেশ্যমূলক মনে করছেন ড. ইউনূসের সমালোচকরা। সরকারের পক্ষ থেকেও এ নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, অর্থের বিনিময়ে লবিস্ট বা ভাড়াটে প্রতিষ্ঠান দিয়ে ড. ইউনূসের পক্ষে বিবৃতি সংগ্রহ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের ইতিহাসে বিচারাধীন বিষয়ে বিশ্ব নেতাদের এমন সরাসরি অবস্থান এর আগে কখনো দেখা যায়নি। এ ধরনের তৎপরতার কারণে ড. ইউনূসকে ঘিরে আগে থেকে চলে আসা গুঞ্জন আরও জোরালো হচ্ছে।

বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে যে, বাংলাদেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি সরকার বসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মূলত ওয়ান-ইলেভেনের পর এই ইস্যুটি প্রথম সামনে আসে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে এ নিয়ে কিছু তৎপরতাও দেখা যায় সেই সময়। ড. ইউনূস তখন সরাসরি রাজনৈতিক দল গঠনেরও উদ্যোগ নিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হয়নি। তবে এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে ড. ইউনূসকে কেন্দ্র করে ক্ষমতার পালাবদলের আলোচনা শোনা গেছে। সর্বশেষ তার নেতৃত্বে দীর্ঘমেয়াদি সরকার গঠনের একটি গুঞ্জন কিছুদিন ধরে বাতাসে ভাসছে।

ড. ইউনূসকে কেন্দ্র করে ঘটতে থাকা সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিএনপি সরাসরি তার পক্ষ নিলেও বিপরীত অবস্থানে আছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা। যদিও উভয়পক্ষই ২০০৮ সালে ড. ইউনূসের দল গঠন করে রাজনীতিতে নামার উদ্যোগের বিরুদ্ধে ছিল।

পর্যবেক্ষক মহলের জোরালো ধারণা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কোনো কোনো মহল বাংলাদেশের রাজনীতিতে ড. ইউনূসকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। তাদের এই তৎপরতা নতুন নয়। দেশের ভেতর থেকেও একটি পক্ষ এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন দিচ্ছে। বিশ্বের প্রভাবশালী রাজনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাম্প্রতিক উদ্যোগ তারই ধারাবাহিকতা। দণ্ডিত হলে ড. ইউনূস সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য হতে পারেন। সেই ভাবনা থেকেই আগে ভাগে সম্মিলিতভাবে তাকে রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তাদের ধারণা।

রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের আগে থেকেই ড. ইউনূসকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে বসানোর তৎপরতা শুরু হয়। ফখরুদ্দিন আহমদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান করার আগে ড. ইউনূসকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তখন তিনি রাজি হননি।

গবেষক মহিউদ্দীন আহমেদ একটি লেখায় দুজন সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে লিখেছেন, ‘ড. ইউনূস কেয়ারটেকার সরকারপ্রধান হওয়ার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার প্রধান কারণ ছিল এই সরকারের স্বল্প মেয়াদ।’

কিন্তু শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়েছিলেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ২০০৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে খোলা চিঠি দেন। এই বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি অধ্যাপক ইউনূস চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, তার দলের সম্ভাব্য নাম ‘নাগরিক শক্তি’। এ সময় তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়া থেকে তার সরে আসার সুযোগ নেই। এর পরই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। পরিবেশ প্রতিকূলে থাকায় ২০০৭ সালের ৩ মে ইউনূস রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন।

২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে বাইরে রাখা কিংবা বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার নানা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিল সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। অধ্যাপক ইউনূস সে পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চেয়েছিলেন বলে অনেকে মনে করেন।

তবে ২০১৮ সালের জুন মাসে এক বিবৃতিতে ড. ইউনূস ওয়ান-ইলেভেনের সময় সরকারপ্রধান হওয়ার আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি জোর গলায় অস্বীকার করেছিলেন।

২০০৯ সালের পর বয়সসীমা অতিক্রম করায় আইন অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ড. ইউনূসকে সরে যেতে হয়। তবে তার ইচ্ছা ছিল, আইন সংশোধন করে হলেও তাকে ওই পদে বহাল রাখা হোক। কিন্তু সরকার সেই পথে না হেঁটে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনে।

মূলত এ ঘটনার পর থেকেই বর্তমান সরকারের সঙ্গে তার বৈরী সম্পর্কের সূত্রপাত। সরকারের দিক থেকে বারবার অভিযোগ করা হয়েছে, পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে বিশ্বব্যাংকের সরে যাওয়ায় নেপথ্যে সরাসরি ড. ইউনূসের হাত ছিল। যদিও বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন।

২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের নামে মামলা করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তর। পাওনা পরিশোধ না করায় গত ২৮ আগস্ট গ্রামীণ টেলিকমের ১৮ জন শ্রমিক ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে আলাদা ১৮টি মামলা করেছেন।

যেদিন এ মামলা হয় সেদিনই অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে চলমান মামলা স্থগিত করার আহ্বান জানিয়ে বিশ্বের ১৬০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি দেন। ২৮ আগস্ট প্রকাশিত চিঠিতে বলা হয়েছে, অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলাগুলোর বিষয়ে তারা শঙ্কিত এবং এর মাধ্যমে তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘অধ্যাপক ইউনূস ধারাবাহিক বিচারিক হয়রানির শিকার হয়েছেন।’

এর আগে ও পরে ড. ইউনূসের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং তার সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।

গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে হিলারি ক্লিনটন বলেন, ‘মহান মানবতাবাদী ও নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের প্রয়োজনের মুহূর্তে তাকে সমর্থন জানাতে আমার ও ১৬০ জনের বেশি বিশ্বনেতার পাশে দাঁড়ান। মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে নিপীড়ন বন্ধের দাবিতে আন্দোলনে যোগ দিন।’

বিশ্বনেতাদের এসব তৎপরতা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বিবৃতি না দিয়ে তাদের উচিত বাংলাদেশে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ পাঠানো। তারা মামলার কাগজপত্র দেখে বিচার করবেন ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে কোনো অন্যায় হচ্ছে কি না।’

প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে ড. ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এটি খুব ভালো প্রস্তাব। আমরা এটিকে স্বাগত জানাই। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ আসলে খুব সহজেই প্রমাণিত হবে যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে যে মামলা দেওয়া হয়েছে সেগুলোর আইনগত ভিত্তি নেই।’

এদিকে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা এবং এরপর ড. ইউনূসকে ঘিরে সে দেশের রাজনীতিবিদদের এই তৎপরতার উদ্দেশ্য নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘নির্বাচন এলেই বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো ড. ইউনূসকে নিয়ে মাতামাতি শুরু করে। এর নেপথ্যে একটি উদ্দেশ্য রয়েছে, যা এখন গোটা জাতির কাছে একেবারেই স্পষ্ট। না বুঝে অনেকেই ইউনূসের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। তিনি যদি নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পান, তখন যে বিএনপির পক্ষ হয়ে কাজ করবেন না—এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে?’

তবে আরেক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরীর বলেন, ‘ইউনূসের সঙ্গে সরকারের বৈরিতা স্পষ্ট। তাই হয়তো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মনে করে, সরকার উদ্দেশ্যমূলকভাবে মামলা দিয়ে তাকে জেলে নিতে চায়। যেন তিনি সামনের দিকে আর এগিয়ে যেতে না পারেন। তা ছাড়া তার রাজনৈতিক ইচ্ছা আছে কি নেই—এটা একেবারেই ব্যক্তিগত বিষয়।’

নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুর মতো ড. ইউনূসকে নিয়েও বিভক্ত দেশের রাজনৈতিক দলগুলো। সরাসরি ইউনূসের পক্ষ নিয়েছে বিএনপিসহ জাতীয়তাবাদী ধারার পেশাজীবীরা। গত ২৯ আগস্ট দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির সূর্যসন্তান আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘উনার বিরুদ্ধে সব মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।’

বিএনপির এই অবস্থানের সমালোচনা করছে আওয়ামী লীগ। দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ড. ইউনূসকে নিয়ে আবার নতুন খেলা শুরু করেছে বিএনপি। তারা ওয়ান-ইলেভেনের দুঃস্বপ্ন দেখছে। ড. ইউনূস ওয়ান-ইলেভেনে কম চেষ্টা করেননি। তখনো তার খায়েশ ছিল, তা পূর্ণ হয়নি। বাংলাদেশকে নিয়ে বিশ্বের অনেক মোড়লের অনেক স্বপ্ন রয়েছে।’

১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এগিয়ে এলে হঠাৎ করে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে কতিপয় সুযোগসন্ধানী তথাকথিত সুশীলদের পক্ষ থেকে এক ধরনের মাতম তোলা হয়। এবারও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে তার প্রতিফলন দেখা হচ্ছে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ব সীমানায় মাতম তোলা হয়েছে।’

ড. ইউনূসকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যে অনেকেই দেশ ও মানুষের দুঃসময়ে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তারা বলছেন, বন্যা, সাইক্লোনসহ বিভিন্ন দুর্যোগে রাজনীতিবিদরা মানুষের পাশে দাঁড়ান। যে অবস্থানেই থাকুক না কেন, শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মীরা দুর্দিনে মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে যান। কিন্তু ড. ইউনূসকে কখনোই কোনো দুর্যোগে প্রত্যক্ষভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। এমনকি বিভিন্ন জাতীয় দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বা জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে লাখ লাখ মানুষ সমবেত হলেও সেখানে যান না ড. ইউনূস। কোনো বিশিষ্টজনের মৃত্যুর পর শ্রদ্ধা জানাতেও দেখা যায় না।

এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘যে মানুষ আমাদের সুখ-দুঃখে নেই, বাংলাদেশের সুখে-দুঃখে নেই, সে মানুষের জন্য এত মায়াকান্না কেন? দেশে যখন করোনার ভয়াবহ আক্রমণ, তখনো ইউনূস কোনো কথা বলেননি। আমাদের দেশে রক্তের বন্যা বয়ে যায়, ড. ইউনূস কথা বলেন না।’ সার্বিক বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্য জানতে ইউনূস সেন্টারে মেইল করা হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।