আর্কাইভ কনভাটার ঢাকা, সোমবার, এপ্রিল ১১০, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

Trying to grab women's land

রাজশাহীতে অসহায় নারীর জমি দখলের চেষ্টা

Bijoy Bangla

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৩, ০৭:৪৪ পিএম

রাজশাহী মহানগরীতে নারীর অসহাত্বকে পুঁজি করে মো. রশিদ কোরাইশী (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীর জমি দখলের চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে শামিমা খাতুন মিতু (৪০) নামের এক নারী। অন্যদিকে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে জমি ছাড়বেন না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মিতু। টাকা চাওয়ার বিষয়টি ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন নিশ্চিৎ করেছেন।

তিনি বলেন, ২৯ নভেম্বর ২০২৩ ইং তারিখে শিরোইল মৌজার শিরোইল কলোনী ৪ নম্বর রোডে ০.০৪১৫ একর জমি বিক্রয় কবলা মুলে তিনজন ওয়ারিশের কাছ থেকে ক্রয় করেন রশিদ কোরাইশী নামের এক ব্যবসায়ী। রশিদ কোরাইশী একজন মাংস ব্যবসায়ী, চন্দ্রিমা থানার শিরোইল কলোনী হাজরাপুকুর এলাকার মৃত অব্বাস আলীর ছেলে। এর আগে জমির মালিক বেগম আফরোজা রহমান কলোনীর মিতু নামের এক নারীকে কুড়ে ঘর থাকাবস্থায় ভাড়া দেন। ভাড়া নেওয়ার চার বছর পর মিতু সেখানে পাকা ঘর নির্মাণ করেন এবং বসবাস শুরু করেন। অথচ জমির মালিক আফরোজা রহমান, মিতুর কাছে জমি বিক্রি করেননি। এমনকি কোন প্রকার বাইনানামাও করেননি।

বিক্রি বা বাইনার কোন দলিল দেখাতেও পারছেননা মিতু। তাহলে কিভাবে তার নিজের দাবি করেন! এ নিয়ে ওয়ার্ড কার্যালয়ে একাধিকবার বসা হলেও মিতু প্রকাশ্যে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। না দিলে জমি ছাড়বেন বলে কার্যালয় থেকে বেড়িয়ে যান। কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন বলেন, কিছু কুচক্রি মহলের কাছে প্রভাবিত হয়ে বেআইন দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন যাহা আইনগত কোন ভিত্তি নাই। তার কাছে বৈধ কোন দলিল না থাকায় জমিটি রশিদ কোরাইশীকে বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। এখন জমিটি ছাড়াত দুরের কথা বিভিন্ন দফতে মায়া কান্না দেখাচ্ছেন এবং মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে বেড়াচ্ছেন।

প্রতিবেশী মৌলভী আতাউল মুস্তফা কাদেরী বলেন, জমির মালিক বেগম আফরোজা রহমান, বসবাস করতেন পাবনা জেলার হেমায়েতপুর ব্র্যাকমোড় রাধানগর গ্রামে। গ্রামের বাড়িতে বসবাস করার সুবাদে তিনি রাজশাহীতে নিয়মিতি যাতায়াত করতে পারতেন না। ফলে উক্ত জমিতে মিতুর কু-নজর পড়ে। আস্তে আস্তে জমিতে পাকা ঘর নির্মাণ করে ফেলেন মিতু। পরে আফরোজা একসময় রাজশাহীতে আসলে তিনি দেখতে পান তার জমিতে পাকা ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে মিতু। এরপর ভয়ভিতি দেখিয়ে বেগম আফরোজাকে রাজশাহী থেকে তাড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে আফরোজা রহমান মারা গেলে তার এক ছেলে ও দুই কন্য ওয়ারিশ সুত্রে মালিক প্রাপ্ত হন।

গত ২৯ নভেম্বর বন্টন মুলে ছেলে আশরাফুর রহমান, কন্যা শাহানা আফরোজ ও ফারহানা আফরোজ নিজ নিজ মালিকানার মোট ০.০৪১৫ একর জমি বিক্রয় কবলা দলিল করেদেন রশিদ কোরাইশীর কাছে। অভিযুক্ত শামিমা খাতুন মিতু জানান, বেগম আফরোজা রহমান মৃত্যুর আগে তার ছেলে আশরাফুর রহমানের সাথে দেড় লাখ টাকা বায়না নামা করি। ইহা শর্তেও তিনি এবং তার দুই বোন রশিদ কোরাইশীর কাছে জমিটি বিক্রি করেদেন।

এঘটনায় প্রতারক আশরাফুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে ৪২০ ধারায় মামলা করলে আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। এখন আমি আমার জমি ফেরত চায়। এঘটনায় অভিযুক্ত শামিমা খাতুন মিতুর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী রশিদ কোরাইশী চন্দ্রিমা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জার (ওসি) মাহবুব আলম জানান, ব্যবসায়ী রশিদ কোরাইশী মিতু নামের এক নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ওসি।

google.com, pub-6631631227104834, DIRECT, f08c47fec0942fa0