আর্কাইভ কনভাটার ঢাকা, শনিবার, জুন ১১০, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
Logo

Khademul Islam Girls School and College

খাদেমুল ইসলাম বালিকা স্কুল এন্ড কলেজ কমিটির স্বজনপ্রীতি॥ প্রতিষ্ঠানের লোকসান চারলাখ

Bijoy Bangla

শাহানুর রহমান রানা

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৪, ০৭:৫৯ পিএম

খাদেমুল ইসলাম বালিকা স্কুল এন্ড কলেজ কমিটির স্বজনপ্রীতি॥ প্রতিষ্ঠানের লোকসান চারলাখ
নগরীর খাদেমুল ইসলাম বালিকা স্কুল এন্ড কলেজ কমিটির স্বজনপ্রীতি আর অদূরদর্শীতায় প্রতিষ্ঠানের লোকসান চারলাখ

নগরীর ২৫ নং ওয়ার্ড অন্তর্গত রানীনগর এলাকার খাদেমুল ইসলাম বালিকা স্কুল এন্ড কলেজের পুরাতন দ্বিতল (উত্তর দিকের অংশটি তৃতীয় তলা) ভবনটির টেন্ডার প্রক্রিয়া, কার্যাদেশ ও চলমান ভাঙ্গন কর্মযজ্ঞ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সেখানে স্থানীয়রা। টেন্ডার সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে অত্র ২৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর লুকেন মাহমুদের মন্তব্য সেই অভিযোগের পাল্লা ভারি করেছে আরো বেশি। তিন সদস্য বিশিষ্ট টেন্ডার কমিটির আহ্বায়ক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শ্যামল কুমার ঘোঘ এবং প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ রণজিৎ কুমার সাহার সিদ্ধান্ত, অদূরদর্শীতা ও স্বজনপ্রীতির বিষয়গুলো নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ঠিকাদার ও সচেতন ব্যক্তিরা। কর্তৃপক্ষের স্বজনপ্রীতি ও দূরদর্শীতার অভাবে চার লাখ টাকার অধিক পরিমাণ অর্থ খোয়ালো স্কুল ফান্ড বলে মন্তব্য স্থানীয়দের। নামমাত্র মূল্যে ঠিকাদারের নিকট ভবনটি বিক্রি করাতে অতিরিক্ত রাজস্ব পাওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হলো দেশের সরকার বলে মন্তব্য সচেতন ব্যক্তিদের।  

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পশ্চিম দিকের পুরাতন ভবনটির স্থলে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে পুরাতন ভবনটি টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রয় করা হয় একজন ঠিকাদারের কাছে। উল্লেখ্য, সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান বাদশার আমলে পুরাতন ভবনটি বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও অলৌকীক কোন কারণে ওইসময় সেটির টেন্ডার আহ্বান করেনি কর্তৃপক্ষ। ম্যানেজিং কমিটিতে নতুন সভাপতির যোগদানের পরপরই টেন্ডার পক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয় পুরাতন ভবনটির বিক্রয়োত্তর অপসারণ প্রক্রিয়ার কর্মযজ্ঞ। দেয়া হয় জাতীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি। ঢাকা থেকে প্রকাশিত কোন শ্রেণির পত্রিকায় টেন্ডার বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়েছিল জানতে চাইলে, অধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে অর্থের স্বল্পতা থাকায় প্রথম শ্রেণির কোন পত্রিকায় টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি দেয়া সম্ভব হয়নি। 

সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে লক্ষিপুরস্থ ঠিকাদার সালাম সর্বোচ্চ দরহাকেন তিন লাখ টাকা। কিন্তু ঠিকাদারের সেই সর্বোচ্চ দর নিয়ে স্থানীয় সচেতন ব্যক্তি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্মচারিদের মাঝে উদ্ভব হয়েছে বিভিন্নমূখী সমালোচনা। পুরাতন ভবনটি কাগজে কলমে সালাম ক্রয় করলেও কয়েকদিন পরেই ঐ ভবনটি কামরুল হাজি¦ নামের অন্য একজন ঠিকাদার সাত লাখ টাকায় সালামের কাছ থেকে কিনে নেন পুরাতন ভবনটি। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছেন, তিন লাখ টাকার উর্দ্ধে এই ভবনটির দাম উঠছিল না বলেই তিন লাখেই কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে।   


সিডিউল জমার দেবার শেষদিনের আগেরদিন ২৮-০৩-২০২৪ তারিখ পর্যন্ত প্রকাশিত টেন্ডারের বিপরীতে কোন সিডিউল জমা পরেনি বলে দাবি করেন অধ্যক্ষ রণজিত কুমার সাহা (দুদিন আগে তিনি নগরীর বরেন্দ্র কলেজে বদলি হয়েছেন)। কিন্তু, শহরের অন্যান্য ঠিকাদার, স্থানীয় ব্যক্তি ও বিশ^স্তসূত্র থেকে পাওয়া তথ্যমতে প্রায় চৌদ্দ-পনেরটির মতো সিডিউল বিক্রি হয়েছে কার্যাদেশ পাবার বিপরীতে। কথা প্রশংসে এমনটা জানানো মাত্রই অধ্যক্ষ সাহেব উনার চেয়ারের উত্তরদিকের সন্নিকটে দাড়িয়ে থাকা দুজন কর্মচারির দিকে দু-একবার তাকিয়ে, যৎসামান্য সময়ের কথোপকথন শেষে; তড়িৎগতিতে পত্রিকার প্রতিনিধিদেরকে জানান, প্রায় ১৯ টির মতো সিডিউল বিক্রি হয়েছে। বক্তব্যগুলো অধ্যক্ষ সাহেবের পূর্বানুমতি নিয়েই ভিডিও ধারণকৃত। কার্যাদেশ পাবার বিপরীতে কতজন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান উত্তোলিত সিডিউল জমা দিয়েছে জানতে চাইলে তিঁনি বলেন, মনে হয় বারোটির মতো! কিন্তু, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও উক্ত টেন্ডার কমিটির আহ্বায়ক শ্যামল কুমার ঘোঘ প্রতিবেদককে জানান, তিন থেকে চারটি সিডিউল জমা পড়েছে কার্যাদেশ পাবার জন্য। কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেলো জানতে চাইলে কিছুটা কাচুমাচু ভঙ্গিমায় অধ্যক্ষ বলেন, প্রতিষ্ঠান......;প্রতিষ্ঠানের নামতো ঠিক এই মূহুর্তে মনে নেই, আমি এখনিই অফিস ত্যাগ করতাম আপনাদের ভিজিটিং কার্ড হাতে পেয়ে কিছুটা সময় দেবার জন্য রয়ে গেলাম অফিসে। যাই হোক এখন আবার কাগজপত্র, ফাইল খুজে বের করতে হবে, সময় থাকলে সম্ভব হতো। তবে যেটুকু মনে পরে নগরীর লক্ষিপুরের বাসিন্দা সালাম নামের একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা দর দিয়ে কাজটির কার্যাদেশ পেয়েছে। স্থানীয় ঠিকাদাররা বলছেন, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও উক্ত টেন্ডার কমিটির আহ্বায়ক শ্যামল কুমার ঘোঘ কৌশল অবলম্বনে নিজের পরিচিত একজন ঠিকাদারের লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজটি বাগিয়ে নিয়েছে। অতঃপর সাত লাখ টাকায় কাজটি অন্য একজন ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করেছে।     

সিডিউল জমার শেষ দিন ধার্য ছিল ২৯-০৩-২০২৪ তারিখে। ঐদিনই ছিল টেন্ডার বাক্স খোলার দিনক্ষণ। কিন্তু, কোন এক অলৌকিক কারণে পরেরদিন ৩০ মার্চ খোলা হয় টেন্ডার বাক্স বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ। সাত লাখ টাকার একটি স্থাপনা কেনো তিন লাখ টাকায় কার্যাদেশ দেয়া হলো। আরকিছুদিন অপেক্ষা করে কিংবা দামবৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন করে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে স্থাপনাটি বিক্রি করলে প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ যোগ হবার সুযোগ ছিল; তাই নয় কি? প্রতুত্তরে অধ্যক্ষ রণজিৎ কুমার সাহা’র বলেন, সরকারি বিধি ও নিয়মানুযায়ী আমরা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন প্রকৌশলীকে দিয়ে ভবনটির আনুমানিক একটি মূল্য নির্ধারণ সাপেক্ষে টেন্ডার আহ্বান করেছিলাম; তিনি সেটির আনুমানিক মূল্য দুই লাখের মতো বলেছিলেন। সরকারি নিয়মানুযায়ী ভবন/স্থাপনা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক বিবেচনা সাপেক্ষে পরিদর্শক যে দাম নির্ধারণ করে দেবেন তার চাইতে কম মূল্যে স্থাপনা/স্থাপনাটির কোন অংশ টেন্ডার বা অন্যকোন বৈধপন্থায় বিক্রি করার সুযোগ নেই। তাই সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকার দর হাকানো ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকেই আমরা নিয়মানুযায়ী ভবন ভাঙ্গার কাজটি দিয়েছি বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ।

স্থানীয় ঠিকাদাররা বলছেন আমাদেরকে সিডিউল উত্তোলন করার সুযোই দেয়া হয়নি। আমরা মৌখিকভাবে ভবনটির মূল্য পাঁচ লাখ বলা মাত্রই স্কুল কর্র্তৃডক্ষ আমাদেরকে জানান, বোয়ালিয়া থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি শ্যামল কুমার ঘোষ ভবনটি টেন্ডারের মাধ্যমে কিনেছেন। ম্রানেজিং কমিটির একজন সদস্য ও টেন্ডার কমিটির আহ্বায়ক হয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণের কোন সুযোগ না থাকলেও কিভাবে তিনি এই ভবনটির কার্যাদেশ পেলো জানতে চাইলে, অধ্যক্ষ বলেন, আসলে ঐদিন স্থানীয় কিছু ঠিকাদার টেন্ডারের কাজ নিয়ে কিছুটা ঝামেলা করছিল। বিধায় শ্যামল দাদা পরিস্থিতি শান্ত করার অভিপ্রায়ে সবার সামনে বলেছিলেন, কাজটি আমি নিয়েছি! কিন্তু পনিস্থিতি শান্ত করার জন্য তো আপনারা স্থানীয় প্রশাসনের সহোযোগিতা নিতে পারতেন। ঐ সময় পুলিশের সহোযোগিতা কেনো নেননি জানতে চাইলে, অধ্যক্ষ রণজিৎ কুমার সাহা কোন উত্তর দেননি। অভিযোগগুলো নিয়ে শ্যামল কুমারকে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমি বোয়ালিয়া থানা আওয়ামী লীগের সম্পাদক। তাই মাত্র চার লাখ টাকা নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যাথা নেই! কিন্তু আপনাদের অবহেলা, স্বজনপ্রীতি আর অদূরদর্শীতার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোয়ালো চার লাখ টাকা। এটা তো প্রতিষ্ঠানের ফান্ডের জন্য কম নয় বলা মাত্রই তিনি বলেন, কাজে কোন প্রকার দ্ইু নাম্বারি হয়নি। সঠিক পদ্ধতি মেনেই টেন্ডার ও কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। আপনি সন্ধ্যায় সময় চা খেতে আসেন। বসে কথা বলি।


google.com, pub-6631631227104834, DIRECT, f08c47fec0942fa0