আর্কাইভ কনভাটার ঢাকা, বৃহস্পতিবার, মে ২৩, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
Logo

logo

শিক্ষার অগ্রদূত জননেতা অ্যাডভোকেট মাদার বখশ

Public leader Mother Bakhsh


ওয়ালিউর রহমান বাবু প্রকাশিত:  ২২ মে, ২০২৪, ০৪:৩৪ পিএম

শিক্ষার অগ্রদূত জননেতা অ্যাডভোকেট মাদার বখশ
শিক্ষার অগ্রদূত জননেতা অ্যাডভোকেট মাদার বখশ

শিক্ষার অগ্রদূত জননেতা রাজশাহী জেলার তৎকালীন নাটোর  মহকুমার সিংড়া থানার স্থাপনাদিঘী গ্রামের এবং রাজশাহী সরকারী কলেজের সাবেক মেধাবী শিক্ষার্থী অ্যাডভোকেট মাদারবখশ কেবল জননেতা নন তিনি ছিলেন ব্যতিক্রম এক ব্যক্তিত্ব। রাজনীতি, সামাজিক অঙ্গন, আইন পেশার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেও গণমানুষের শিক্ষার কথা ভেবে এ কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখেন। এজন্যই তিনি শিক্ষার অগ্রদূত। তার জন্ম নাটোর  মহকুমার সিংড়া থানার স্থাপনাদিঘী গ্রামে। এখানকার প্রাইমারি স্কুলে তার শিক্ষা জীবন শুরু। এরপর চৌগ্রাম ইংরেজি হাইস্কুল থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কোন বাধা বিপত্তি তাকে থামিয়ে রাখতে পারে নি। সব কিছু উপেক্ষা করে, রাজশাহী সরকারী কলেজে ভর্তি হয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে কলকাতায় চলে  যান। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে মাস্টার্স ও রিপন কলেজ থেকে আইনে ডিগ্রি অর্জন করেন। ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার সালার হাইস্কুলে রাজশাহী জেলার তৎকালীন চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহকুমার পোরশা হাই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। রাজশাহী জজ কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়তে থাকে। পরউপকারী জনদরদী মাদার বখস মুসলিম সমাজের পিছেয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে আত্মনির্ভরশীল, শিক্ষিত করার কথা ভেবে রাজনীতিতে যোগ দেন। মুসলিম লীগের নীতি নির্ধারকের দায়িত্ব পালনকালে মুসলিম তরুণ যুব সমাজের মধ্যে জেগে উঠার প্রেরণা সৃষ্টি হয়। মুসলিম লীগ রাজশাহী জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট মাদার বখসের সাথে দল মত ধর্ম নির্বিশেষে সকলের হৃদতা ছিল।

রাজশাহীর বাগমারা, তৎকালীন নঁওগা মহকুমার আহসানগঞ্জ (আত্রাই), মান্দা অঞ্চল থেকে জয়লাভ করে বঙ্গীয় আইন পরিদের সদস্য নির্বাচিত হন। পাকিস্তান আমলেও তিনি পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদের সদস্য ছিলেন। অন্যায়কে প্রশয় দিতেন না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে তার অক্লান্ত প্রচেষ্টা এবং দাবী প্রমাণ করে তিনি কি ধরণের  ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বৈষম্য রোধে উত্তরবঙ্গ প্রদেশ গঠনে চিন্তা ভাবনা করেন। ভাষা আন্দোলন রাজশাহী কলেজ কর্তৃপক্ষ কয়েকজনকে বহিস্কার করার সিদ্ধান্ত নিলে প্রতিবাদ ও অনশন শুরু হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ে সব জায়গায়। তিনি সরকারী দল করলেও কলেজে এসে টেলিফোনে প্রধানমন্ত্রী নুরুল আমিনের সাথে কথা বলে বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করে, বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিশ্রতি আদায় করেন। ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি গুলিবর্ষণ করে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করে তিনি প্রকাশ্য জনসভায় নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তান আইন পরিষদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্তের কথা বক্তব্যে বললে পরিস্থিতি অন্য রূপ ধারণ করে। তাকে কারাগারে যেতে হয়। তিনি তার অবস্থান থেকে সরে যান নি। এবার শিক্ষা প্রসারের চিন্তা ভাবনা থেকে রাজশাহী জেলা সদর আজ শিক্ষা নগরী আজ পরিচিত। রাজশাহী জেলা সদরের তৎকালীন পৌরসভা জনপ্রিয় চেয়ারম্যান তার কর্মকান্ড ছিল প্রসংশনীয়। রাজশাহী জেলা সদর ও পৌরসভা এলাকায় জনবান্ধব কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তিনি সর্বপ্রথম রাজশাহী জেলা সদরে রিসকা নিয়ে আসেন। নিউ মার্কেট স্থাপন, হরিজনদের  রেশনের ব্যবস্থা, রাস্তার উন্নয়ন, নদীর বাধ নির্মাণ সহ নানা কার্যক্রমে তার ব্যপক ভূমিকা ছিল। তার চেষ্টায় বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। তার চেষ্টায় স্থাপিত মেডিকেল স্কুল, পরবর্তীতে মেডিকেল কলেজে রূপ নেয়, গড়ে ওঠে হাসপাতাল।

১৯৬৭ সালে ২০ জানুয়ারি অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নাম তার নামে করা হয়েছে। জেলা সদরের একটি রাস্তার নামকরণ তার নামে করা হলেও নাম ফলকটির এখন আর কোন অস্তিত্ব নাই। রাজশাহী জেলা সদরের মাদারবখশ অর্থনীতি কলেজ শুধু দেশে নয়, বিদেশেও তাকে পরিচিত করে রেখেছে। জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সাথে তার বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক ছিল। নতুন প্রজন্মদের কাছে এই  বিশেষ ব্যক্তিত্বের অবদান তুলে ধরতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এই ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরতে নানা কর্মসূচির আয়োজন করে থাকে।

তথ্যসুত্রঃ  ভাষাসৈনিক অধ্যাপক একরামুল হক। গবেষক, শিক্ষাবিদ ড. তসিকুল ইসলাম রাজা। ভাষাসৈনিক, জননেতা অ্যাডভোকেট মাদারবখশের স্বজন। গ্রন্থনায়ঃ- সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী, রাজশাহী।


google.com, pub-6631631227104834, DIRECT, f08c47fec0942fa0