Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Friday , ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০১:০২ অপরাহ্ন

প্রয়োজনে জীবন দেবো, পে-স্কেল ছাড়া ফিরবো না

অনলাইন ডেস্ক ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন ছাড়া রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেওয়া সরকারি কর্মচারীরা। তারা বলছেন, “সাদা কাপড় পরে এসেছি। প্রয়োজনে লাশ হয়ে যাব, তবু পে-স্কেল আদায় করেই ছাড়বো।” 

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা যমুনার সামনে এসে অবস্থান নেন। 

নরসিংদী থেকে আসা সরকারি কর্মচারী হালিমা আক্তার বলেন, “গত ৯ বছর ধরে আমাদের বেতন একই জায়গায় আটকে আছে। টাইম স্কেল নেই, সিলেকশন গ্রেড নেই। অথচ বাজারে চাল, ডাল, তেলের দাম কোথায় গিয়ে ঠেকেছে? এই বেতনে সন্তান পড়াবো, না বাসা ভাড়া দেবো? কিছুই সম্ভব না। আমরা ভিক্ষা চাই না, আমাদের ন্যায্য পে-স্কেল চাই।”

তিনি আরও বলেন, “পে কমিশন গঠন করা হয়েছে, রিপোর্টও জমা দেওয়া হয়েছে। তাহলে প্রজ্ঞাপন আটকে রাখা হচ্ছে কেন? আজ যদি এখান থেকে খালি হাতে ফিরি, তাহলে সরকারি কর্মচারী হিসেবে আমাদের আর কোনো সম্মান থাকে না।”

মানিকগঞ্জ থেকে আসা সরকারি কর্মচারী রফিকুল ইসলাম বলেন, “বারবার আশ্বাস শুনে আমরা ক্লান্ত। আজ আর আশ্বাস নয়, লিখিত প্রজ্ঞাপন চাই। আমরা সাদা কাপড় পরে এসেছি মানে একটা বার্তা দিতে—প্রয়োজনে জীবন দেবো, কিন্তু পে-স্কেল ছাড়া ফিরবো না।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার বৈষম্য দূর করার কথা বলেছিল। অথচ সবচেয়ে বড় বৈষম্যের শিকার হচ্ছি আমরা, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা। ৯ মাস ধরে শুধু সময় ক্ষেপণ করা হচ্ছে। এটা আমাদের সঙ্গে সরাসরি অবিচার।”

আন্দোলনকারীদের বক্তব্যে উঠে আসে দ্রব্যমূল্যের ভয়াবহ চাপের চিত্র। তারা জানান, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হলে বর্তমান বেতন কাঠামোয় পরিবার চালানো কার্যত অসম্ভব। অনেকেই ঋণ করে সংসার চালাচ্ছেন, সন্তানের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।

যমুনার সামনে অবস্থান থেকে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট ঘোষণা দেন—নির্বাচনের আগেই নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। আজকের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে কর্মসূচি আরও কঠোর করা হবে। যেখানেই বাধা দেওয়া হবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

সংগৃহীত ছবি