Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Monday , ০৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:২০ অপরাহ্ন

সৈয়দপুর নিষিদ্ধপল্লীতে সালেহার অ্যাকশন ৪ এপ্রিল রাজশাহী উপশহরে অবাঙালিদের নারকীয়তা

ওয়ালিউর রহমান বাবু ০৬ এপ্রিল ২০২৬

১৯৭১ সালে রংপুর জেলার সৈয়দপুরে নিষিদ্ধপল্লী ছিল। তখন সেখানকার থানার বাঙালি ওসি ফজলকে সরিয়ে অবাঙালি জামাল উদ্দিনকে দায়িত্ব দিলে প্রতিদিন সে এখানকার মেয়েদের কোথায় নিয়ে যেত কেউ তা জানতে পারত না। দিনাজপুরের প্রতিরোধ ভেঙ্গে গেলে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর) এর স্বাধীনতাকামী এক বাঙালি যোদ্ধা সৈয়দপুরে এলে হামিদুল হাসান তারেক(বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীর বিক্রম) স্বাধীনতাকামী শহিদকে তার সেল্টারের ব্যবস্থা করতে বললে তিনি চিন্তাভাবনা করে নিষিদ্ধপল্লীর সালেহাকে জানালে সে আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব নিয়ে স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাকে তার ঘরে সেল্টার দেয়। অবাঙালি ওসি জামাল উদ্দিন রংপুর জেলা সদর থেকে আসা পাকিস্তান পন্থী অবাঙালি পুলিশদের নিয়ে সেখানে গিয়ে বাঙালি মেয়ে জবাকে গালাগালি করলে সে প্রতিবাদ করে বলে “গালাগালি করছেন কেন? যাকে খুশি নিয়ে যান” অবাঙালি ওসি জবাকে থাপ্পড় মেরে নিচে ফেলে দিয়ে তার উপর বুট জুত পড়া পা তুলে দিলে অন্যান্য মেয়েরা ঘরের দরজা বন্ধ করে দিতে থাকে। অবাঙালি পুলিশেরা ঐ ওসির মদদে দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে। সালেহার ঘরে সেল্টার নেয়া যোদ্ধার ইশারায় সালেহা দরজা খুলে রাখে। অবাঙালি এক পুলিশ ঘরের ভিতর ঢুকে পিছন হয়ে দরজা বন্ধ করার সময় যোদ্ধাটির এ্যাকশনে তার ঘার মটকে গেল। নিয়ে নেয়া হয় তার রাইফেল। অবাঙালি পুলিশটি নিচে পরে গেল। এ সময় সালেহা টেবিলে থাকা চাকু নিয়ে অবাঙালি পুলিশটির উপর এ্যাকশন শুরু করে। অন্য এক অবাঙালি পুলিশ গুলিতে নিহত হয়। নিষিদ্ধপল্লীর মেয়েরা এখান থেকে বের হয়ে গ্রামের দিকে চলে গেল। তথ্যসূত্রঃ বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হোসেন তারেক, বীর বিক্রম। 

১৯৭১ এর ৪ এপ্রিল রাজশাহী জেলাসদরের উপশহর সেক্টর ১ এ  পাকিস্তানপন্থী অবাঙালিরা নারকীয়তা চালিয়ে হত্যাকান্ড চালায়। এ সময় রাজশাহী জেলা সদর স্বাধীনতাকামীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। জানা যায় ক্যান্টনমেন্টে অবরুদ্ধ থাকা পাকিস্তানি সৈন্যরা এতে মদদ দেয়। দীর্ঘদিন আগে মসজিদ কমিটি (বাইতুস সালাম) ও উপশহর স্কুলকে উর্দু স্কুল করার বিরোধের জেরে এই নারকীয়তা। অবাঙালিরা এ- ১৭০,১৭১,১৭২ বাড়ি দখল করে এই নারকীয়তা চালায়। তারা স্কুল ছাত্র নিয়াজুদ্দিনের মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে তার মা সায়রা বেগমের গলায় ফাঁস লাগিয়ে এবং যক্ষা রুগী সাকিমকে বল্লভ দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। তারা বাড়ি নং বি-৪৯৩ এ পোষ্ট মাস্টার আবুল হাসনাত, আব্দুল মান্নান এবং এই পরিবারের কিশোর হাবিবকে হত্যা করে। জয়নব বেগমের পায়ে ও আমেনা বেগমের হাতে গুলি করে। তারা স্বাধীনতাকামীদের ট্রেনিং দেওয়া জহুরুল ইসলাম সহ আজিজুর রহমান, এক্রামুল হককে গুলি করে আলী কদমকে চাকু দিয়ে খুচিয়ে হত্যা করে। বেঁচে জান এ জেড আজাদ, সিদ্দিকুর রহমান, রশিদ, সালাম ও অনেকে। সেদিন সেদিকে যাওয়া রিকশা চালক, ভিকারি, সাধারণ মানুষ এই নারকীয়তা থেকে রক্ষা পাননি। অভিযোগ যারা নারকীয়তার চালায় তারা ও তাদের পরিবার প্রশ্রয় পেয়ে মুখোশ পালটিয়ে ফেলে। অনেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গুলিতে যুক্ত হয়ে যায়।

তথ্যসূত্রঃ তারিখ হায়দার মিঠু, শহিদ পরিবার 

লেখকঃ তথ্য সংগ্রাহক সমাজ ও সাংস্কৃতিক কর্মী, রাজশাহী


রংপুর জেলার সৈয়দপুর নিষিদ্ধ পাড়া, (নয়াবাজার) সালেহার অ্যাকশন স্থল।