
আর মাত্র কয়েকটা দিন, এরপরই কাস্তে হাতে মাঠে নামার কথা ছিল কৃষকদের। কিন্তু তপ্ত বিকেলের আকাশ কালো মেঘ থেকে নামা বৃষ্টিপাত যেন আশীর্বাদ নয়, বরং কৃষকের জন্য নিয়ে এলো একরাশ বিষাদ।
মুহূর্তের মধ্যে নাটোর জেলা সদর, সিংড়ার চলনবিল, গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া সহ বৃষ্টিপাতের সাথে আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে কৃষকের শত শত একর মাঠের উঠতি ফসল বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল। এতে কৃষকের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) বিকেলে হঠাৎ শুরু হওয়া এ শিলাবৃষ্টি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এবার আক্রান্ত এলাকায় বোরো ফসলের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
পাশাপাশি আম-লিচু নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং কিছু সময় ধরে শিলাবৃষ্টি হয়।
এতে মাঠে থাকা বোরো ধান, রসুন, পেঁয়াজ এবং তরমুজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া শিলার আঘাতে আম ও লিচুর গুটি ঝরে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। হঠাৎ এ দুর্যোগে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।
বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, ফসল ঘরে তোলার এখন শেষ সময়। এসময় এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের বড় ধরনের আর্থিক সংকটে ফেলে দিয়েছে। তারা দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
এছাড়া আম ও লিচু বাগানের মালিকরা জানান, শিলাবৃষ্টির কারণে আম ও লিচুর মুকুল ঝরে গেছে। ফলে আম- লিচুরও ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তারা।
এদিকে বিভিন্ন ফসলের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, অনেক স্থানে বিশেষ করে চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়া এলাকায় আধাপাকা ধানের শীষগুলো শিলার আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। কোনো কোনো জমিতে ধানের দানা সাদা হয়ে গেছে, যা আর চালে রূপান্তর হবে না।
ক্ষোভে ও দুঃখে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, সারা বছরের খোরাকি হচ্ছে বোরো ধান। ধার দেনা করে আবাদ করেছি। ভেবেছিলাম, আর কয়েকদিন পর ধান ঘরে তুলে ঋণের টাকা পরিশোধ করবো। কিন্তু এক শিলাবৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেল। মাঠে ফসলের অবস্থা ভালো থাকলেও শিলাবৃষ্টির কারণে এবার ফসলের ফলন কম হবে।
অপরদিকে নাটোর সদর, সিংড়া, গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ শুরু হয়েছে। কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর প্রক্রিয়া চলছে। সরকারি সহায়তা পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. হাবিবুল ইসলাম খান বাংলানিউজকে জানান, শিলাবৃষ্টির কারণে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার পরিসংখ্যান এখনো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। বুধবার (৮ এপ্রিল) মাঠ পর্যায়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত হিসাব নিরূপণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।