
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার কয়েরদাঁড়া খ্রিস্টানপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুমী মুর্মু। তিনি সংসদে গিয়ে সমতলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও দাবি তুলে ধরার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
সুমী মুর্মুর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে সমতলের আদিবাসীরা জাতীয় পর্যায়ে যথাযথ প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। সংসদে সরাসরি তাদের হয়ে কথা বলার মতো কেউ না থাকায় অন্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই বাস্তবতা থেকেই তিনি নিজেই মনোনয়ন সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি জানান, বহু বছর ধরে নারী ও শিশু উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছেন তিনি। তার উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় দুটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে প্লে থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ১৫৫ জন শিক্ষার্থী বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করতে নকশিকাঁথা ও ডিজাইনভিত্তিক একটি কর্মসূচি চালু করেছেন, যেখানে বর্তমানে ১৭২ জন নারী যুক্ত রয়েছেন। শিশুদের জন্য কম খরচে আবাসনের ব্যবস্থাও করেছেন তিনি।
সুমী মুর্মু বর্তমানে উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। সংগঠনটির রাজশাহী মহানগরে ৫১ জন এবং উপজেলা পর্যায়ে ৩১ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক ও বাস্তব নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষদের জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্বে আসার সুযোগ সীমিত। সংখ্যালঘু হওয়ায় নির্যাতনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তাই নিজেদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও একজন আদিবাসী প্রতিনিধি হিসেবে তিনি মনে করেন, তাদের সমাজের ভয়-ভীতি ও বাস্তব সমস্যাগুলো সামনে আনা জরুরি। তিনি বলেন, নিজেদের অধিকার রক্ষায় নিজস্ব নেতৃত্ব তৈরি করাই এখন সময়ের দাবি।
নিজেকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে সুমী মুর্মু জানান, তিনি মার্কেটিং বিভাগে এমবিএ সম্পন্ন করার পর থেকেই সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত আছেন। সুযোগ পেলে জাতীয় পর্যায়েও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তার বিশ্বাস। নারী হিসেবে শুরুতে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও বর্তমানে পরিবারের সমর্থন পাচ্ছেন। তার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে উত্তরবঙ্গের আদিবাসীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট প্রভাত টুডু বলেন, উত্তরবঙ্গে প্রায় ১৫ লাখ আদিবাসী বাস করলেও তাদের হয়ে কথা বলার মতো প্রতিনিধি নেই। তাই সংগঠনের পক্ষ থেকে সুমী মুর্মুকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে এবং তাকে নেতৃত্বে দেখতে চাওয়ার আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৫০টি। মনোনয়ন ফরমের মূল্য ২ হাজার টাকা এবং জমা দেওয়ার সময় ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে, যা ফেরতযোগ্য নয়। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল গ্রহণ ২৬ এপ্রিল এবং নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।