
নদী, গাছপালা ও পরিবেশ রক্ষায় ২০ দফা দাবিতে রাজশাহীতে সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে ‘নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন, বাংলাদেশ, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন ডা. ওয়াসিম হোসেন, হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী, জাকিব খান, ডা. মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, মো. সাইফুল হাসনাইন হিকল, সমাজকর্মী ওয়ালিউর রহমান বাবু, দিগন্ত প্রসারীর সভাপতি মো. নুরুল হক, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক, হায়দার আলী জুলফিকার প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, উন্নয়নের নামে নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। নগরীর অবশিষ্ট গাছ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
এ সময় শব্দদূষণ রোধে নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার, উৎপাদন ও বিপণন বন্ধ, উন্মুক্ত ড্রেনের পরিবর্তে স্বাস্থ্যসম্মত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্লাস্টিক দূষণ বন্ধে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধের দাবি তোলা হয়, কৃষিজমিতে পুকুর খনন বন্ধ করে ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করতে হবে। নগরবাসীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অন্তত ২০০ শয্যার একটি সরকারি হাসপাতাল স্থাপনের দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, ইটভাটার নিয়ম মানা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং নদী-খাল-বিল দখলমুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশে পদ্মা, মহানন্দা, বারানই, নারদ, বারাহী ও নারায়ণীসহ সব নদী পুনরুদ্ধার, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য পৃথক পানি ব্যবস্থাপনা ও ‘বরেন্দ্র উন্নয়ন বোর্ড’ গঠনের দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ, শিল্প-কারখানা ও চামড়া শিল্পের বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখা এবং অবৈধ যানবাহন অপসারণের দাবিও তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, বিষমুক্ত কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশ শেষে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ‘নদী বাঁচাও, পরিবেশ বাঁচাও, রাজশাহী বাঁচাও’ স্লোগান দিয়ে আন্দোলন শক্তিশালী করতে রাজশাহীর সকল সামাজিক সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান।