
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি স্ক্রিপ্টকে অস্কার পুরস্কারের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করেছে একাডেমি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হতে হলে অভিনয় ও স্ক্রিপ্ট মানুষের তৈরি হতে হবে।
অস্কার আয়োজনকারী সংস্থা অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস এই নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছে। এতে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, কেবল সেই অভিনয়ই অস্কারের জন্য বিবেচিত হবে যা মানুষের দ্বারা সম্পাদিত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতিতে করা হয়েছে।
একইভাবে স্ক্রিপ্ট-এর ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত আরোপ করা হয়েছে। স্ক্রিপ্ট অবশ্যই মানুষের লেখা হতে হবে। এআই দিয়ে তৈরি বা আংশিকভাবে তৈরি স্ক্রিপ্ট অস্কারের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে না।
একাডেমি আরও জানিয়েছে, কোনো চলচ্চিত্রে এআই ব্যবহারের বিষয়ে তারা অতিরিক্ত তথ্য চাইতে পারে। প্রয়োজনে ‘মানবিক সৃজনশীলতা’ কতটা ছিল তা যাচাই করার অধিকারও রাখবে সংস্থাটি।
সম্প্রতি চলচ্চিত্র জগতে এআই ব্যবহারের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। ইতিমধ্যে প্রয়াত অভিনেতা ভ্যাল কিলমারের এআই সংস্করণ ব্যবহার করে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে ‘টিলি নরউড’ নামে একটি এআই-নির্ভর ভার্চ্যুয়াল অভিনেত্রীও আলোচনায় এসেছে। নতুন ভিডিও তৈরির এআই প্রযুক্তি অনেক নির্মাতার মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এর আগে ২০২৩ সালে হলিউডের অভিনেতা ও স্ক্রিপ্ট লেখকদের ধর্মঘটেও এআই একটি বড় ইস্যু ছিল। সৃজনশীল কাজের ওপর এআইয়ের প্রভাব এবং মানবিক অবদান কমে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই এই বিতর্কের জন্ম।
শুধু চলচ্চিত্র নয়, অন্যান্য সৃজনশীল ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি এআই ব্যবহারের অভিযোগে একটি উপন্যাস প্রকাশনা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিভিন্ন লেখক সংগঠনও বলছে, এআই দিয়ে তৈরি কাজ পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হওয়া উচিত নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই নিয়ম চলচ্চিত্র শিল্পে মানবিক সৃজনশীলতার গুরুত্ব বজায় রাখতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এআই ব্যবহারের সীমা নির্ধারণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে এই নীতিমালা কতটা কার্যকর থাকবে তা সময়ই বলে দেবে।