
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, সমাজের বিভাজন ও সংঘাত দূর করে বৈষম্যহীন দেশ গড়তে কাজ করছে সরকার। অন্যায় বা দুর্নীতি করলে শাস্তি সবার জন্যই সমান। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, বিধ্বস্ত অবস্থায় দায়িত্ব নিয়েছে বিএনপি। ভঙ্গুর শিক্ষা ও সংস্কৃতি ব্যবস্থা নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। মত ও চিন্তার পার্থক্য থাকলেও ঐক্যের মাধ্যমে দেশ গড়তে চায় সরকার।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে ত্রিশাল উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দুই দশক পর জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি পরিদর্শনে ত্রিশালে যান মন্ত্রী। সভা শেষে কবি নজরুলকে ঘিরে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন তিনি।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ২১ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান সফল করতে মন্ত্রণালয় নিয়মিত প্রস্তুতি সভা করছে। অনুষ্ঠানের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, এখানে পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান হবে। পাঁচ দিনে পাঁচজন মন্ত্রী এখানে আসবেন।
ত্রিশাল ও ময়মনসিংহকে ঘিরে সাংস্কৃতিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আগেও এখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বারবার এসেছেন। তারেক রহমানও এখন আসবেন। কবি নজরুলকে ঘিরে এই অঞ্চল ঢাকার বাইরে আরেকটি রাজধানীর মতো হয়ে যেতে পারে। ত্রিশাল ও ময়মনসিংহের সে সম্ভাবনা আছে।
স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রতিদিন ঢাকা থেকে শিল্পীরা এলেও স্থানীয় শিল্পীদেরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এখানকার শিল্পীরা তৈরি হোক, সেটাই আমরা চাই। ময়মনসিংহে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ রয়েছে, তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি আছে। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীও আছে। এই এলাকার স্থানীয় শিল্পীদেরও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ থাকবে। আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ চাই এবং সেই চর্চা এই শহরকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠবে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহাবুবুর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ।
এ ছাড়া, ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।