Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Thursday , ১৪ মে ২০২৬ | ০৬:১১ অপরাহ্ন

স্ত্রী ও তিন মেয়েসহ পাঁচ খুন: পদ্মায় ঝাঁপ দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ ঘাতক ফোরকানের

অনলাইন ডেস্ক ১৪ মে ২০২৬

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী ও তিন মেয়েসহ পাঁচজনকে নৃশংসভাবে হত্যার পর পালিয়ে যাওয়া ফোরকান মোল্লা আত্মহত্যার জন্য পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর তাকে আর পাওয়া যায়নি। তাই ধারণা করা হচ্ছে, তার মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শরিফ উদ্দিন তার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করে এ তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার জানান, এখনো ফোরকানের মৃতদেহের খোঁজ পাননি তারা। পদ্মা নদীসংলগ্ন সব থানায় ফোরকানের ছবিসহ তথ্য পাঠানো হয়েছে। কোথাও অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহ উদ্ধার হলে তথ্য জানানোর অনুরোধ জানিয়েছে গাজীপুর পুলিশ।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, সোমবার (১১ মে) ফোরকান মোল্লার (৪০) মোবাইল ফোনটি এক ট্রাকের হেলপারের কাছ থেকে উদ্ধার হয়। তার তথ্য অনুযায়ী, ট্রাক নিয়ে সেতু পার হওয়ার সময় মোবাইলটি পান।

পরে সেতুর সিসি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সোমবার সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে সেতুর ওই স্থানে একটি প্রাইভেট কার থেকে নামেন এক ব্যক্তি, যিনি দেখতে ফোরকানের মতোই। ওই ব্যক্তি মোবাইল ও সঙ্গে থাকা ব্যাগ রেলিংয়ের পাশে রেখে ৬টা ৪২ মিনিটে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি (ফোরকান মোল্লা) পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাঁচ হত্যার ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছিল। এর মধ্যেই পদ্মা সেতুর ওপর থেকে একটি ব্যাগ ও কিছু কাপড় উদ্ধার করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেগুলো ফোরকানের। 

কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালকসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় নিহত শারমিন খানমের বাবা মো. সাহাদৎ মোল্লা কাপাসিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে ওই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নৃশংস এ ঘটনায় নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত ফোরকান পরিবারের সদস্যদের খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে খাওয়ানোর পর গভীর রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একে একে তাদের হত্যা করে পালিয়ে যায়।

প্রাইভেটকারচালক ফোরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামের একটি বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে; তার বাবার নাম আতিয়ার রহমান মোল্লা।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান।

ঘরের মেঝেতে তিন শিশুকন্যার গলাকাটা মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। মা শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলন্ত ছিল, আর শ্যালক রসুল মিয়ার মরদেহ বিছানার ওপর পড়ে ছিল।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন নিহতদের স্বজনরা। পরে পুলিশ ও তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েস এবং কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করে।

ঘটনাস্থলে কিছু প্রিন্ট করা কাগজও পাওয়া যায়। ওই কাগজের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফোরকান এর আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছিলেন এবং একই সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়ার অভিযোগও তোলেন।

প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা ছিল, পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগে থেকেই দুজনকে আটক করেছিল পুলিশ।

--সংগৃহীত ছবি