
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একটি শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার (১৩ মে) রাতে উপজেলার চুনিয়াপাড়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নির্যাতিত শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। আর
গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম মো. সজীব (২১)। বাবার নাম মো. মোফাজ্জল। বাড়ি উপজেলার চুনিয়াপড়া গ্রামে।
স্থানীয় ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৮মে) এলাকার টুটুলের চায়ের দোকানে গ্রেপ্তারকৃত সজীবসহ কয়েকজন বসে ছিল। ওই সময় সেখানে ওই শিশু সেখানে যায়। একই দিনে টুটুলের চায়ের দোকানে টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। গত বুধবার (১৩ মে) বিকেলে ওই শিশু স্থানীয় সিসিএস উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলা করতে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে সজীবসহ কয়েকজন ওই শিশুকে জোরপূর্বক বিদ্যালয়ের বাউন্ডারির ভিতরে ধরে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গিয়ে মর্টারের পাইপের ফিতা দিয়ে হাত-পা বেঁধে একটি আম গাছের ডালে উল্টো করে ঝুলিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
খবর পেয়ে এলাকার লোকজন ও ওই শিশুর পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সেদিনই ওই শিশুর দাদা তিনজনকে অভিযুক্ত করে নিয়ামতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পরপরই নিয়ামতপুর থানার উপপরিদর্শক (সাব-ইন্সপেক্টর) জাহাঙ্গীর আলম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযুক্ত সজিবকে গ্রেপ্তার করে।
ওই শিশুর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার বাচ্চাকে শুধু সন্দেহ করে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। এখন সে ভালোমতো খেতে পারছে না। ব্যথায় কাতরাচ্ছে। রাতের বেলা ঠিকমত ঘুমাতে পারছে না। চিৎকার করছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, একটি শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগে
একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় সজিবকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।