
রাজশাহীর দুর্গাপুরের কাঁচুপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে জাল সনদে শিক্ষক নিয়োগ ও বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ বোর্ড গঠনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার নিষ্পত্তির আগেই অভিযুক্ত শিক্ষকদের গোপনে এমপিওভুক্তির প্রস্তাব পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কাঁচুপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ এবং নিয়োগ বোর্ড গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের ৪ নভেম্বর রাজশাহীর সহকারী জজ (দুর্গাপুর) আদালতে মামলা দায়ের করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। মামলা নম্বর-১০৭/২০২৫। মামলায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিবাদী করা হয়েছে।
মামলার আরজিতে বিচারাধীন বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত না করার আবেদনও করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, মামলাটি চলমান থাকা অবস্থাতেই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) লায়লা আক্তার জাহান গোপনে ওই শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির প্রস্তাব মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালকের দপ্তরে পাঠিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, আদালতে বিচারাধীন কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। তবুও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিধিবহির্ভূতভাবে ভূয়া নিয়োগ বোর্ড দেখিয়ে এবং জাল সনদের ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির উদ্যোগ নিয়েছেন, যা আদালত অবমাননার শামিল এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রচলিত নীতিমালার পরিপন্থী।
প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, অভিযুক্ত শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ গ্রহণ করেই এমপিওভুক্তির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা আক্তার জাহান। তিনি বলেন, “একটি রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন পক্ষের চাপের মুখে প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি পরিচালক মহোদয়কে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জায়েদুর রহমান বলেন, “আদালতে কোনো বিষয় বিচারাধীন থাকলে সেটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি অফিসিয়ালি জানার পর এমপিওভুক্তির প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়েছে।”
এসআইএল/বিবিএন