Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Tuesday , ১৯ মে ২০২৬ | ০৬:৫৪ অপরাহ্ন

ঈদযাত্রায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে চলবে ১৭ ফেরি ও ২০ লঞ্চ

অনলাইন ডেস্ক ১৯ মে ২০২৬

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ঘরমুখো যাত্রী ও কোরবানির পশুবাহী ট্রাক পারাপার নির্বিঘ্ন করতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৭টি ছোট-বড় ফেরি ও ২০টি লঞ্চ চলাচল করবে। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় এ তথ্য জানানো হয়। সভায় ফেরি সার্ভিস, লঞ্চসহ অন্যান্য জলযানের সুষ্ঠু চলাচল নিশ্চিত করা এবং যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় জানানো হয়, যাত্রীরা যেন ঈদের আগে বাড়িতে এবং ঈদের পরে কর্মস্থলে নিরাপদে ফিরতে পারেন, সে লক্ষ্যে ঈদের আগে ও পরে পাঁচ দিন করে নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে। ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীদের বাস থেকে নেমে যেতে হবে এবং এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা হবে। লঞ্চে লাইফ জ্যাকেট ও বয়া রাখা বাধ্যতামূলক করা হবে এবং ভাড়া বৃদ্ধি করা যাবে না। দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় বাসের ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে রাখতে হবে। ঘাটে চারজন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি স্ট্যান্ডবাইতে থাকবেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে। কোনো অপরাধ ঘটলে ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন।

এ ছাড়াও যাত্রীদের জন্য ওয়াশ ব্লক, নারীদের জন্য ব্রেস্টফিডিং কর্নার, সড়কে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং দৌলতদিয়া বাইপাস সড়কে রাতে আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে পন্টুনে রিকশা ও ইজিবাইক না ওঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চুরি ও ছিনতাই রোধে ঘাট এলাকায় মাইকিং করা হবে। এ ছাড়া লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন না করতে বিআইডব্লিউটিএ ও লঞ্চ মালিক সমিতিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা নদী বন্দর কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো. আল-আমিন হোসেন বলেন, দৌলতদিয়ায় আমাদের ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ঘাট প্রস্তুত আছে। পাশাপাশি ৫ নম্বর ঘাটটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।

লঞ্চ মালিক সমিতির কার্যকরী প্রতিনিধি আব্দুর রশিদ মল্লিক বলেন, ঈদে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ২০টি এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ১২টি লঞ্চ চলাচল করবে। যাত্রীদের নিরাপত্তায় লঞ্চে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও বয়া থাকবে।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, ঈদুল আজহায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে রো-রো, ইউটিলিটি ও কে-টাইপ ফেরিসহ বহরে মোট ১৭টি ফেরি থাকবে। দৌলতদিয়া প্রান্তে ৩, ৪ ও ৭ নম্বরসহ মোট তিনটি ঘাট সচল থাকবে। পানি বাড়লে ৫ নম্বর ঘাটও ব্যবহার করা যাবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক বলেন, ঈদে ঘাটের আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সাদা পোশাকে পুলিশ, ডিবি পুলিশ এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ট্রাফিক পুলিশ সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, গত ঈদে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। তাই এবার ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নেমে যেতে হবে। পন্টুনের ওপর ইজিবাইক ও অটোরিকশা রাখা যাবে না। ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান থাকবে এবং জেলা প্রশাসন থেকে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সকলকে দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে কাজ করতে হবে। আমরা চাই, আর কোনো প্রাণ যেন ঝরে না যায়।



এসআইএল/বিবিএন

সংগৃহীত ছবি