
দৌলতদিয়া বাস ডুবির ঘটনায় নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন থেকে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল ৪টার দিকে দৌলতদিয়া বাস ডুবির ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেন, আজকের ঘটনার সার্বিক বিষয়টি পর্যালোচনা করার জন্য আমরা নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ রফিকুল করিমে নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। এই কমিটিতে বিআইডব্লিউটিএ এবং বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা থাকবেন। এছাড়াও জেলা প্রশাসন থেকে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আজ বাসে ৩৭ জন যাত্রী ছিলেন, যারা সবাই আজকে বাস থেকে নেমে গিয়েছিলেন। মাত্র ড্রাইভার এবং হেলপার ছিলেন বাসের মধ্যে। তবে, তাদেরকেও উদ্ধার করা হয়েছে। তারা আহত হয়ে হাসপাতালে আছেন। তবে বড় ধরনের কোনো ঝুঁকি নেই। আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাবো জেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীদের। তারাও আজকে সিরিয়াসলি কাজ করেছেন। যে কারণে কিন্তু বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। প্রধানমন্ত্রী আজকের ঘটনার পরে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিয়েছেন। বাসটি উদ্ধারের পরেও তিনি খোঁজ নিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসবি পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে এসে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে দৌলোতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছে জাহাঙ্গীর নামক একটি ফেরিতে ওঠার কথা ছিল। সে জাহাঙ্গীর ফেরিতে না উঠে সরাসরি পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ফেরির ডালায় আঘাত করে এবং সেটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। এ ঘটনার সাথে সাথেই আমাদের উদ্ধারকারী জাহাজ হামজাকে নিয়ে আসি। আমাদের কোস্টগাডের ডুবুরি দল ও বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দল দ্রুততার সাথে বাসটি উদ্ধার করে এবং ঘাটটিকে পুনরায় সচল করার চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, আজকে আমরা একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেয়েছি। এজন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে শুকরিয়া জানাই। পাশাপাশি আমি কৃতজ্ঞতা জানাবো আমাদের যাত্রীসাধারণকে। যারা আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাস থেকে নেমে গিয়েছিলেন। তাদের সচেতনতার কারণে আজকে আমরা বড় একটি দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি।
প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গতবারের দুর্ঘটনার পর তিনি নির্দেশনা দিয়েছিলেন যত কষ্টই হোক না কেন ফেরিতে বাস উঠার আগে যাত্রীদের নামাতে হবে। আবার ফেরি থেকে বাস যখন উঠবে তখনও সকল যাত্রীকে নামিয়ে তারপর উঠতে হবে। মানুষকে বাস থেকে নামানো খুব কষ্টকর ব্যাপার। বাসে অনেক বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ, শিশু বাচ্চা থাকে। তারপরও আমরা শতভাগ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। আজকের ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, আমরা বাস থেকে শতভাগ যাত্রী নামিয়ে ফেরিতে ওঠানোর চেষ্টা করেছি, যেটি দেশের ইতিহাসে ছিল না।
তিনি বলেন, এবার ঈদের আগে আমরা দৌলতদিয়া ঘাটে একাধিকবার এসেছি। পাটুরিয়া ঘাটেও একাধিকবার এসেছি। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি ও নৌ পুলিশসহ আমরা যারা এখানে কাজ করি, সকলে মিলে ঈদ যাত্রাটা সুন্দর করার। আজকেও আমরা সেটি করেছিলাম। আমরা শুকরিয়া আদায় করছি, আমরা আজকে বড় ধরনের একটি হতাহতের ঘটনা থেকে রেহাই পেয়েছি। আমরা আশা করব, যাত্রীরা আমাদের আহ্বানে সাড়া দেবেন, আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন এবং সরকারের নিয়ম-কানুন মেনে চলবেন এবং যেকোনো ঝুঁকিমুক্তভাবে চলাফেরা চেষ্টা করবেন। আমরা নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় যাত্রীদের যাত্রা নিরাপদ করতে কাজ করে যাব।
পরিদর্শনকালে এসময় বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, রাজবাড়ী জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, নৌ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।