
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি বাজারে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
শনিবার (৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ আশা প্রকাশ করেন। এসময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন।
বাজেটের পর এমনিতেই জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। কিছুদিন পর বাজেট ঘোষণা। এই সময়ে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো কতটা যৌক্তিক- জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা (দাম বাড়ানো) কোনো না কোনো একটা জায়গায় করতে হবে। আপনি যে কথাটা বলেছেন, বাজেট আসলেই বা বাজেট হয়ে গেলেই মূল্য বেড়ে যায়। আপনারা অনেকেই বাজারে যান নিশ্চয়ই, আমিও বাজারে যাই। বাজারে জিনিসপত্রের দাম বিশেষ করে কাঁচাবাজার, সবজির মূল্য আমি দেখছি বেশ নিয়ন্ত্রণে আছে অনেক সময়ের তুলনায়। আমি এ কথাটা বলতে চাই যে, প্রবণতা আছে। এই প্রবণতার বদলও শুরু হয়েছে। এখন ভর্তুকি সংকটটা আপনি খুব ভালোভাবে নিশ্চয়ই জানেন।’
‘আমরা ভর্তুকিতে এত বেশি খরচ করে ফেলি, সরকারের কিন্তু আরও অনেক উন্নয়ন প্রকল্প আছে এবং সামাজিক নিরাপত্তার প্রকল্প আছে। আমরা স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বড় ব্যয় করতে চাই, শিক্ষায় চাই এবং সামাজিক নিরাপত্তাতে- আপনারা কৃষক কার্ডের কথা জানেন, ফ্যামিলি কার্ডের কথা জানেন। তাই এগুলোর ব্যয় সংস্থান তো আসলে আমাদের করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘যদি কিছু মূল্য বাড়েও- এটা উচিত হবে না, সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। কিন্তু একই সঙ্গে আমি এই কথাটা বলতে চাই, সেটা হচ্ছে যদি কারও ওপরে চাপ পড়ে, ওই ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীটিকে কিন্তু আমরা রক্ষা করছি। বিদ্যুতের দাম তাদের জন্য বাড়াইনি, জ্বালানির দাম বাড়াইনি এবং তারা আবার সরকারের কাছ থেকে অনেকেই ভাতা পেতে শুরু করবেন।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এই বাজেটে একটা বড় শতাংশের মানুষ ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে যাবেন। একই সঙ্গে অন্য যেসব নিরাপত্তা আছে- টিসিবির প্রকল্প বা অন্যান্য নিরাপত্তা জাল, সেগুলো বলবৎ থাকছে। সুতরাং এটা (বিদ্যুৎ ও তেলের দাম বৃদ্ধি) আশা করি খুব বড় প্রভাব ফেলবে না। এর মানে এই না যে বাজারে যে অন্যায়ভাবে মূল্য বৃদ্ধি হয় সেটা নিয়ে সরকার কাজ করবে না। সরকার নিশ্চয়ই কাজ করবে।’