
ইসলামে জান্নাত হলো চিরস্থায়ী সুখ-শান্তির আবাস। পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে, জান্নাতে মুমিনদের সঙ্গে তাদের নেককার বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান ও প্রিয়জনদের একত্রিত করা হবে। জান্নাতে একাধিকবার বিবাহিত নারীরা কোন স্বামীর সঙ্গে থাকবেন এ প্রশ্ন অনেক মুসলমানের মনেই দেখা যায়।
এ বিষয়ে ইসলামি পণ্ডিতদের মধ্যে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, স্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের পিতা-মাতা, স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল, তারাও তাদের সঙ্গে প্রবেশ করবে। (সুরা রাদ, আয়াত: ২৩)
তাফসিরকারক ইবনে কাসিরের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, জান্নাতে মুমিনদের আনন্দ ও তৃপ্তি পূর্ণাঙ্গ করার জন্য আল্লাহ তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে মিলিত করবেন।
আলেমদের মতামত
১. পছন্দের সুযোগ দেওয়া হবে
কিছু আলেমের মতে, যে নারীর একাধিক স্বামী ছিল, তাকে জান্নাতে পছন্দের অধিকার দেওয়া হবে। তিনি সেই স্বামীকে বেছে নেবেন, যার সঙ্গে তার সম্পর্ক, স্বভাব ও মানসিক মিল সবচেয়ে বেশি ছিল।
২. শেষ স্বামীর সঙ্গে থাকবেন
অন্য একটি মত অনুযায়ী, নারী তার শেষ স্বামীর সঙ্গেই জান্নাতে অবস্থান করবেন। এ মতের পক্ষে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যেখানে আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, নারীকে তার শেষ স্বামীই দেওয়া হবে। (তাবরানি, হাদিস: ৩১৩০)
৩. উত্তম চরিত্রের স্বামীকে বেছে নেবেন
আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, উম্মে সালামা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কোনো নারীর যদি দুই স্বামী থাকে, তবে সে কার সঙ্গে থাকবে?
জবাবে রাসুল (সা.) বলেন, তাকে পছন্দের সুযোগ দেওয়া হবে এবং তিনি সেই স্বামীকে বেছে নেবেন, যিনি দুনিয়াতে তার সঙ্গে সবচেয়ে উত্তম আচরণ করেছিলেন। সেই স্বামীই জান্নাতে তার সঙ্গী হবেন। (আল-মুজামুল কাবির)
৪. সমন্বিত মত
কিছু ইসলামি গবেষক ও আলেমের মতে, যদি নারীর সব স্বামীই চরিত্র ও আচরণের দিক থেকে সমান মর্যাদাসম্পন্ন হন, তাহলে তিনি শেষ স্বামীর সঙ্গে থাকবেন। আর যদি তাদের মধ্যে আচরণগত পার্থক্য থাকে, তাহলে তাকে পছন্দের অধিকার দেওয়া হবে।
ইসলামি পণ্ডিতরা মনে করেন, এ বিষয়ে কোরআনে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। তবে সব মতের মূল কথা হলো জান্নাতে কোনো মুমিনের মনে অপূর্ণতা বা কষ্ট থাকবে না। আল্লাহ তাআলা জান্নাতবাসীদের জন্য সর্বোচ্চ সুখ ও সন্তুষ্টির ব্যবস্থা করবেন।
তাই একাধিক বিবাহিত নারী জান্নাতে কার সঙ্গে থাকবেন, সে বিষয়ে বিভিন্ন মত থাকলেও চূড়ান্ত ফয়সালা আল্লাহ তাআলারই, যিনি তার বান্দাদের জন্য সর্বোত্তম ব্যবস্থা নির্ধারণ করবেন।