Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Tuesday , ০৯ জুন ২০২৬ | ০১:৫০ অপরাহ্ন

আদম (আ.) পৃথিবীতে আসার পর কী করেছিলেন?

অনলাইন ডেস্ক ০৯ জুন ২০২৬

মানবজাতির আদি পিতা হজরত আদম আলাইহিস সালামের বেহেশত থেকে দুনিয়ায় আগমন এবং তার পরবর্তী জীবন নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে তার জীবনের নানা দিক বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

সুদীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ায় হজরত আদমের জীবন সম্পর্কিত অনেক তথ্যই এখন ইতিহাসের অতল গহ্বরে হারিয়ে গেছে। ফলে কোরআন ও সুন্নাহর বাইরে তার জীবন নিয়ে সুনির্দিষ্ট এবং নির্ভরযোগ্য আর কোনো উৎস অবশিষ্ট নেই। আধুনিক নৃবিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে যেসব তথ্য দেন, তার বেশিরভাগই ধারণানির্ভর। বিপরীতে, কোরআন ও সুন্নাহ আমাদের সামনে তুলে ধরে বাস্তব ও ঐতিহাসিক সত্য। মহান আল্লাহ নিজেই এই রহস্যের প্রকৃত জ্ঞাতা এবং তিনি তার প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যতটুকু জানাতে চেয়েছেন, ঠিক ততটুকুই ওহীর মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।

আলেমরা মূলত কোরআন, হাদীস এবং এসব উৎসের ওপর ভিত্তি করে রচিত নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করেন, যার মধ্যে ইমাম ইবনে কাছিরের সংকলন অন্যতম। বুখারী শরীফের একটি বর্ণনার বরাত দিয়ে ইবনে কাছির তার আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে উল্লেখ করেছেন, হজরত আদম থেকে শুরু করে হজরত নূহ আলাইহিস সালাম পর্যন্ত ১০টি প্রজন্ম অতিবাহিত হয়েছিল এবং তারা সবাই ইসলাম বা একত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।

হজরত আদম (আ.) ছিলেন পৃথিবীর বুকে প্রথম মুসলমান এবং প্রথম নবী। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, পৃথিবী পৃষ্ঠে পা রাখার সময় হজরত আদম প্রথম কোথায় নেমেছিলেন? বিভিন্ন ইতিহাস ও বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি তৎকালীন সিংহল বা বর্তমান শ্রীলঙ্কার একটি পাহাড়ে অবতরণ করেছিলেন। প্রাচীনকালে এই দ্বীপটিকে সারান্দীপ বা রত্নদ্বীপ বলা হতো।

জনশ্রুতি আছে, শ্রীলঙ্কার সেই পাহাড়ের চূড়ায় একটি পাথর রয়েছে, যেখানে হজরত আদমের পায়ের ছাপ স্পষ্ট অঙ্কিত। এই ঐতিহাসিক স্থানটি স্বচক্ষে দেখার জন্য অনেকেই সেখানে ছুটে যান। দুর্গম ও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছানো বেশ কঠিন। তবে যুগের পর যুগ ধরে মানুষ ওই পাহাড়টিকে আদমস পিক বা আদমের পাহাড় নামে ডেকে আসছে। ইতিহাস ও জনমানুষের এই অবিচ্ছিন্ন বিশ্বাসই প্রমাণ করে যে, সৃষ্টির শুরুতে হজরত আদম সেখানেই প্রথম পদার্পণ করেছিলেন।

শ্রীলঙ্কা থেকে মক্কা যাত্রা

অনেকে দাবি করেন, সৌদি আরবের জেদ্দায় হজরত আদম ও বিবি হাওয়ার স্মৃতিবিজড়িত স্থান রয়েছে। তবে এই তথ্য শ্রীলঙ্কায় অবতরণের দাবিকে নাকচ করে না। কারণ শ্রীলঙ্কায় নামার পর হযজরত আদম সেখান থেকে মক্কায় গিয়েছিলেন—এমনটি হওয়াই স্বাভাবিক।

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থের তথ্য অনুযায়ী, যখন হাবিল ও কাবিলের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং কাবিল তার ভাইকে হত্যা করে, সেই সময়ে হজরত আদম পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় অবস্থান করছিলেন।

মুসনাদে আহমদে বর্ণিত একটি হাদীস অনুযায়ী, হজরত আদমের উচ্চতা ছিল প্রায় ৫০ ফুট এবং চওড়া ছিল ৯ ফুট। বিশালাকৃতির এই শারীরিক গঠনের কারণে তার পক্ষে শ্রীলঙ্কা থেকে হেঁটে মক্কায় যাতায়াত করা মোটেও অসম্ভব বা কঠিন কিছু ছিল না। একইসঙ্গে ঐতিহাসিকরা মনে করেন, শ্রীলঙ্কা থেকে মক্কা যাওয়ার পথে হযরত আদম যেখানেই যাত্রাবিরতি করেছিলেন, পরবর্তীতে সেসব স্থানেই এক একটি জনপদ বা শহরের সৃষ্টি হয়েছিল।

পবিত্র কাবার ইতিহাস

বিখ্যাত তাবেয়ী কাতাদাহর মতে, হজরত আদম (আ.) দুনিয়ায় আসার সময়ই মহান আল্লাহর নির্দেশে পবিত্র কাবা শরীফ পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়। মহান আল্লাহ হজরত আদমকে জানিয়েছিলেন যে, আসমানে যেভাবে ফেরেশতারা আল্লাহর আরশ তাওয়াফ করেন, ঠিক তেমনি দুনিয়াতেও কাবার চারপাশ তাওয়াফ করা হবে।

পরবর্তীতে হজরত নূহের প্লাবনের সময় আল্লাহ তায়ালা কাবা ঘরকে ওপরে তুলে নেন এবং পৃথিবীর আজাব থেকে এটিকে রক্ষা করেন। এরপর দীর্ঘকাল এটি আসমানেই তাওয়াফের কেন্দ্র হিসেবে সংরক্ষিত ছিল। বহু বছর পর হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম আল্লাহর নির্দেশে সেই আদি ভিত্তির ওপর পুনরায় কাবার দেয়াল নির্মাণ করেন।

মুফাসসির ইবনে জারীর উল্লেখ করেছেন, আল্লাহ তায়ালা হজরত আদমকে কাবার চারপাশ তাওয়াফ করার নির্দেশ দেওয়ার পর একজন ফেরেশতা পাঠিয়ে তাকে হজের সমস্ত নিয়মকানুন শিখিয়ে দিয়েছিলেন। ইমাম ইবনে কাছিরের মতে, সৃষ্টির শুরুতে প্রথমে কাবা গৃহ নির্মিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে একে কেন্দ্র করেই চারদিকে স্থলভাগ ছড়িয়ে পড়ে। সেই হিসেবে কাবা শরীফই হচ্ছে পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু।

জীবনের শেষ দিনগুলো

ইমাম ইবনে কাছিরের বর্ণনা অনুযায়ী, জীবনের শেষভাগে হজরত আদম আলাইহিস সালাম আরব ভূখণ্ড থেকে পুনরায় শ্রীলঙ্কার সেই পাহাড়ে ফিরে যান, যেখানে তিনি প্রথমবার নেমেছিলেন। সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন এবং তাকে সমাহিত করা হয়।

হজরত  আদম প্রায় এক হাজার বছর জীবিত ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে তার বংশধররা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পবিত্র কোরআনের সূরা নিসার ১ নম্বর আয়াতে যেভাবে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন—ঠিক সেভাবেই তার সন্তান ও সন্ততিরা শ্রীলঙ্কা, আরব এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র পৃথিবীতে মানব বসতি গড়ে তুলেছিল।

--সংগৃহীত ছবি