
মৌসুমি ফলের বাজারে এখন লিচুর ভরা মৌসুম। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ লিচু চট্টগ্রামে আসছে।
পাইকারি বাজারে দামেরও বড় ধরনের চাপ নেই। তবে সেই সুবিধা পাচ্ছেন না সাধারণ ক্রেতারা।
পাইকারি ও খুচরা দামের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান থাকায় সব ভোক্তার নাগালে নেই এই ফল।
চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোডের ফলমন্ডিতে দেখা গেছে, রাজশাহী, দিনাজপুর ও ঈশ্বরদী থেকে ট্রাকভর্তি লিচু প্রতিদিন আসছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং আগামী কয়েকদিনে আরও বাড়তে পারে।
ফলমন্ডির আড়তগুলোতে এক হাজার লিচু বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়।
অর্থাৎ প্রতিটি লিচুর পাইকারি মূল্য পড়ছে প্রায় আড়াই থেকে সাড়ে তিন টাকা। কিন্তু নগরের বিভিন্ন খুচরা বাজারে একই লিচু ১০০টি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৯০০ টাকায়। সে হিসাবে প্রতিটি লিচুর দাম দাঁড়াচ্ছে ৫ থেকে ৯ টাকা, যা পাইকারি মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি।
খুচরা বাজারে লিচু কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। তাদের প্রশ্ন, পাইকারি পর্যায়ে দাম তুলনামূলক কম থাকলে খুচরা বাজারে এত বড় ব্যবধান কেন থাকবে?
পাইকারি ব্যবসায়ীদের মতে, বাগান থেকে সংগ্রহ, শ্রমিক ব্যয় ও পরিবহন খরচ আগের তুলনায় বেড়েছে। অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের পর পাইকারি বাজারে কিছুটা মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।
তবে বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, শুধু পরিবহন বা সংগ্রহ ব্যয় দিয়ে বর্তমান মূল্য ব্যবধান পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা কঠিন। তাদের ধারণা, সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভিন্ন ধাপে অতিরিক্ত মুনাফা যোগ হওয়ার কারণেও খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়ে যেতে পারে।
লিচুর মৌসুম তুলনামূলক স্বল্প সময়ের হওয়ায় এ ফলের চাহিদা প্রতি বছরই বেশি থাকে। পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়স্বজনের কাছে উপহার হিসেবে পাঠানোর প্রবণতাও বাজারে বাড়তি চাহিদা তৈরি করে। তবু পর্যাপ্ত সরবরাহের মধ্যে খুচরা বাজারে উচ্চমূল্য ধরে রাখার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের নজরদারির দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।
বাজারে লিচুর জোগান যখন স্বাভাবিক, তখন পাইকারি ও খুচরা দামের এই বিস্তর পার্থক্য স্বাভাবিক বাজার ব্যবস্থার অংশ নাকি মধ্যবর্তী পর্যায়ের অতিরিক্ত মুনাফার ফল-সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।