Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Saturday , ২০ জুন ২০২৬ | ১২:২০ অপরাহ্ন

অতিরিক্ত পানি পানেও হতে পারে বিপদ

অনলাইন ডেস্ক ২০ জুন ২০২৬

পানি মানবদেহের জন্য অপরিহার্য। তবে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পানি পানও কখনো কখনো স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে শরীরে পানির ঘাটতি না থাকলেও বারবার পানি পান করার প্রবল তাগিদ দেখা যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে সাইকোজেনিক পলিডিপসিয়া বলা হয়।

এটি মূলত মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সমস্যা। আক্রান্ত ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে তৃষ্ণার্ত না হলেও বারবার পানি পান করেন।

চিকিৎসকদের ভাষায় এটি এক ধরনের বাধ্যতামূলক আচরণ, যা দীর্ঘমেয়াদি কিছু মানসিক রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। বিশেষ করে সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার ডিজঅর্ডার বা তীব্র উদ্বেগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এ প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

অতিরিক্ত পানি পানে কী হতে পারে?

চিকিৎসকদের মতে, অস্বাভাবিক মাত্রায় পানি পান করলে শরীরের সোডিয়ামের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত কমে গেলে যে অবস্থা তৈরি হয়, তাকে হাইপোনাট্রেমিয়া বলা হয়।

এ অবস্থায় শরীরের বিভিন্ন কোষ, বিশেষ করে মস্তিষ্কের কোষে পানি জমে ফুলে যেতে পারে। ফলে মস্তিষ্কে চাপ বাড়ে, যা গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে সক্ষম। চিকিৎসা না পেলে খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

সাইকোজেনিক পলিডিপসিয়ার কারণে শরীরে পানি ও লবণের ভারসাম্য নষ্ট হলে কয়েকটি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে,

* ঘন ঘন মাথাব্যথা

* বমি বমি ভাব বা বমি

* অতিরিক্ত ঘুম ঘুম অনুভূতি

* মনোযোগ ও চিন্তায় বিভ্রান্তি

* মাংসপেশির দুর্বলতা বা খিঁচুনি

* স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি প্রস্রাব হওয়া

* গুরুতর ক্ষেত্রে রোগী জ্ঞান হারাতেও পারেন।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে এই সমস্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বেশি। পাশাপাশি কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও অতিরিক্ত তৃষ্ণার অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে বা ‘বেশি পানি মানেই বেশি সুস্থতা’, এমন ধারণা থেকে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পানি পান করেন। তারাও ঝুঁকির বাইরে নন।

যা করবেন

সাইকোজেনিক পলিডিপসিয়ার ক্ষেত্রে শুধু পানি কম পান করাই যথেষ্ট নয়। এর পেছনে থাকা কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন, এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিদিনের তরল গ্রহণের পরিমাণ নির্ধারণ, রক্তে সোডিয়াম ও অন্যান্য ইলেকট্রোলাইটের মাত্রা পর্যবেক্ষণ এবং আচরণগত থেরাপির মাধ্যমে সমস্যাটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করা সবচেয়ে নিরাপদ। পিপাসা না থাকলেও বারবার পানি পান করার প্রবণতা দেখা দিলে বিষয়টিকে হালকাভাবে না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

--সংগৃহীত ছবি