
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের পর মৃত ভেবে কচুরিপানার নিচে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে স্থানীয়দের তৎপরতায় শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক মাদকসেবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বারোবাজার ইউনিয়নের মহিষাহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের তৎপরতায় শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত শিশু জাহিদ (৯) মহিষাহাটি গ্রামের ভ্যানচালক আবুল কালামের ছেলে। বর্তমানে সে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। অভিযুক্ত হৃদয় হাসান (২৬) একই গ্রামের আমিনুর রহমানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত বলে জানা গেছে।
শিশুটির বাবা আবুল কালাম বলেন, প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও আমি ভ্যান নিয়ে জীবিকার উদ্দেশ্যে বের হই। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনে আমাকে জানায়, তার ছেলে জাহিদকে হত্যা করে মাজদিয়া বাওড়ের কচুরিপানার নিচে ফেলে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত গিয়ে ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির পাশের মান্দারতলা এলাকায় খেলছিল জাহিদ। এ সময় হৃদয় হাসান তাকে জোর করে নির্জন স্থানে নিয়ে মারধর ও নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে হৃদয়সহ আরও দুই সহযোগী মাজদিয়া বাওড়ের কচুরিপানার নিচে ফেলে দিয়ে যায়।
কচুরিপানার ফাঁকে শিশুটির মুখ ভেসে উঠতে দেখে এক ভ্যানচালক এগিয়ে যান। কয়েকজন মিলে জাহিদকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। পরে স্বজনরা তাকে দ্রুত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
কালীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান বলেন, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।