
এগারো সিন্ধুর প্রভাতী ও গোধুলী ট্রেনের অনবোর্ড সার্ভিসের টেন্ডারে মোট ১৬ টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহন করে।কিন্তু এদের ভিতর ১০ টি প্রতিষ্ঠান কোন লভ্যাংশ নিতে চায় না।
নথিপত্র পর্যালোচনা এতে দেখা যায় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই দরপত্রে সিডিউল অনুযায়ী ITT Clause 21 এর (7) a,b,c,d ও e অনুযায়ী দরপত্র প্রদান করে নাই। উল্লিখিত দরপত্রে বেতনের সাথে ট্যাক্স, ভ্যাট, লভ্যাংশ এবং মালামালের মূল্য সঠিকভাবে প্রদান করে নাই ১৬ টি প্রতিষ্ঠানের ১০ টি প্রতিষ্ঠান।
এনালাইসিসের বিবরনী ও টেন্ডার ওপেনিং শীট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রাজ এন্টার প্রাইজ, মেসার্স হাবিব বানিজ্য বিতান, মেসার্স পাইওনিয়ার এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজ, ক্লিন সার্ভিস, স্বপ্নীল এসোসিয়েটস, জান্নাত ট্রেডিং , এইচ এন্ড এন্টারপ্রাইস, মেসার্স ওবায়দুল হক এন্ড সন্স এবং বুলবুল এন্টারপ্রাইজ।
জনবলের বেতন, মালামালের পাইকারি সর্বনিম্ন মূল্য, ১৫% ভ্যাট , ২% আয়কর, অতিরিক্ত কোচ ট্রিপ হিসেব করে ৮৮৭১ টি কোচ ট্রিপের মূল্য দাড়ায় ৯১,২২, ১৪২ টাকা।
আনুমানিক ১০% লভ্যাংশ ৬৪৪,৩১২ টাকা বাদ দিলে মূল্য দাড়ায় ৮৪,৭৭, ৮৩০ টাকা।
উল্লেখিত ১০ টি প্রতিষ্ঠান ৮৪, ৭৭, ৮৩০ টাকার নিচে দরপত্র দাখিল করেছে।সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এই ১০ প্রতিষ্ঠানের দরপত্র বাতিল হওয়ার কথা রয়েছে।
পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়ার অনিয়ম হওয়ার আশংকায় লিখিত ভাবে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালককে জানিয়েছেন বেঙ্গল ফাইভ স্টার সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। উল্লেখ্য এই প্রতিষ্ঠানটিও এই টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেছে।
এ ব্যপারে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেন, অনবোর্ড সার্ভিসের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যাচাই বাচাই করে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকেই কমিটি বাছাই করে নিবে।
উল্লেখ, এগারো সিন্ধুর গোধুলী (ট্রেন নং ৭৪৯/৭৫০) বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে পরিচালিত ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ পর্যন্ত চলাচলকারী একটি আন্তঃনগর ট্রেন। এটি একটি জনপ্রিয় দ্রুতগামী ও বিলাসবহুল আন্তঃনগর ট্রেন। এগারোসিন্ধুর এক্সপ্রেস নামে ১৯৮৭ সালে যাত্রা শুরু করে এবং এগারোসিন্ধুর গোধূলী হিসেবে যাত্রা শুরুর তারিখ ১৬ মে ২০০২।