
সন্তান যেন বাবা-মায়ের কথা শোনে, ভদ্র আচরণ করে এবং অবাধ্য না হয়, এমনটাই চান অধিকাংশ অভিভাবক। তবে এর জন্য কঠোর শাসনের বদলে সন্তানের কথা মন দিয়ে শোনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা জ্যাকি শ্রফ।
জ্যাকির মতে, অনেক সময় সন্তান জেদি বা একগুঁয়ে হয়ে ওঠার পেছনে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর শাসনই দায়ী। তাই সন্তানকে ভালো আচরণ শেখাতে চাইলে প্রথমে বাবা-মাকেই সংযত হতে হবে।
সন্তানের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং ধৈর্য ধরে তার কথা শুনতে হবে। এতে বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের বিশ্বাস তৈরি হয়।
সেই বিশ্বাস থেকেই সন্তান ব্যক্তিগত সমস্যাও খোলামেলা বলতে পারে এবং বাবা-মায়ের পরামর্শ গ্রহণে আগ্রহী হয়।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের সুস্থভাবে বড় করে তুলতে পরিবারের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও ইতিবাচক হওয়া প্রয়োজন।
ছোটদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনলে তারাও বড়দের কথা গুরুত্ব দিতে শেখে। অন্যদিকে পরিবারে বোঝাপড়ার অভাব থাকলে শিশুরা বাইরের মানুষের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে, যা কখনও কখনও তাদের ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে।
জ্যাকি শ্রফের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছেন অনেক মনোবিজ্ঞানীও। তাদের মতে, সন্তানের কথাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাকে বিশ্বাস করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ মানসিক চাপ, ভয় বা নির্যাতনের মতো পরিস্থিতিতে পড়া অনেক শিশুই প্রথমে নিজের আচরণের মাধ্যমে সংকেত দেয়। সেই সময় বাবা-মায়ের অবিশ্বাস বা অতিরিক্ত কঠোরতা শিশুকে আরও মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।
মনোবিজ্ঞানীদের পরামর্শ, শিশুদের প্রতিটি বিষয়ে অযথা ‘না’ না বলে বয়স-উপযোগী স্বাধীনতা দেওয়া উচিত। পাশাপাশি অভিভাবকদের উচিত তাদের কর্মকাণ্ডে নজর রাখা এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া। এতে শিশুরা নিজেদের সিদ্ধান্তের ভালো-মন্দ বুঝতে শেখে এবং দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে।