
পঞ্চগড়ের অমরখানা ইউনিয়নের মহারাজার দিঘী থেকে মানিক হোসেন (১৭) নামের এক তরুণের মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হলেও তদন্তে জানা গেছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে যৌন নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে এবং প্রতিবেশীদের ফাঁসাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে নিহতের আপন বড় বোন এবং তাদের এক আত্মীয় শাহাবুদ্দিন (৪৬) জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এর মধ্যে নিহতের বড় বোন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফরহাদ হোসেন।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে মহারাজার দিঘী থেকে মাগুড়া ইউনিয়নের মালাদাম এলাকার বাসিন্দা মানিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে সময় মরদেহের কোমরে একটি চিরকুট পাওয়া যায়, যেখানে মৃত্যুর জন্য কয়েকজন প্রতিবেশীকে দায়ী করা হয়েছিল।
ওই দিন বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এর আগে, অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে গত বুধবার (১৫ জুলাই) পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা করেন নিহত মানিকের বড় ভাই মালেক হোসেন।
হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে নিহতের বড় বোনের ঘর থেকে উদ্ধার করা চিরকুটের লেখার সঙ্গে হুবহু মিল থাকা একটি ক্যালেন্ডারের পাতা উদ্ধার করা হয়। সন্দেহভাজন হিসেবে নিহতের মা ও বোনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে নিহতের বোন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। হত্যাকাণ্ডে মায়ের কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
নিহতের বড় বোনের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বিয়ে হলেও বাবার বাড়িতেই থাকতো সে। তার ছোট ভাই মানিক কর্তৃক ব্ল্যাকমেইল ও উপর্যুপরি গুরুতর যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন।
এ সময় মানিক গোপনে ভিডিও ধারণ করে একাধিকবার ধর্ষণ করে তাকে। এ ঘটনায় ভাই মানিককে হত্যার পরিকল্পনা করে বোন।
গত রবিবার (১২ জুলাই) প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঝগড়া হয় তাদের। সে সময় মানিককে হত্যা করে প্রতিবেশীদের ফাঁসানোর পরিকল্পনা করে বোন। সহযোগী হিসেবে সঙ্গে নেয় শাহাবুদ্দিনকে।
গত সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় মানিককে নিয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলার মহারাজার দিঘীতে ঘুরতে যায় বোন। সেখানেও বোনকে একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে মানিক। পরে রাত ৮টায় পাশের একটি হোটেলে পানির সঙ্গে মানিককে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায় বোন। রাত ১০টায় মানিক ঘুমের ঘোরে টলতে থাকে। পরে তাকে মহারাজার দিঘীর পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তার মোবাইল ফোন পানিতে ফেলে দিয়ে কোমরে চিরকুট রাখে। শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তাকে পানিতে ফেলে দেয় শাহাবুদ্দিন। রাত ১টায় তারা বাড়ি ফিরে যায়। গত বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে মহারাজার দিঘীতে তার লাশ পাওয়া যায়।