Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Friday , ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ০৪:৫৬ অপরাহ্ন

বৃক্ষঘেরা রাবি ক্যাম্পাসে বিরল বামুনশালিকের অবাধ বিচরণ

রাজশাহী প্রতিনিধি:- ০৭ আগস্ট ২০২৬

ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সবুজ ঘাসে ব্যস্ত এক ছোট্ট পাখি। ঠোঁট দিয়ে মাটি থেকে পোকামাকড় কুড়িয়ে খাচ্ছে। দূর থেকে সাধারণ শালিক মনে হলেও একটু ভালো করে তাকালেই চোখে পড়ে এর স্বতন্ত্র সৌন্দর্য। কালো ঝুঁটি, ধূসর-সাদাটে দেহ আর চঞ্চল চলাফেরা—এ যেন প্রকৃতির এক নীরব সৌন্দর্য। এটি বামুনশালিক, যা শঙ্খশালিক নামেও পরিচিত।


বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রমেই কমে আসা এই পাখির দেখা মিলছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে প্রায় সারা বছরই। পাখি গবেষকদের মতে, নিরাপদ পরিবেশ, পর্যাপ্ত খাদ্য, বিস্তীর্ণ সবুজ এলাকা এবং পুরোনো বৃক্ষরাজির কারণে ক্যাম্পাসটি বামুনশালিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।


দেশে ভাতশালিক, ঝুঁটিশালিক, গোশালিক কিংবা কাঠশালিক সহজেই চোখে পড়লেও বামুনশালিক তুলনামূলক বিরল। তবে রাবি ক্যাম্পাসের খোলা মাঠ, তৃণভূমি, জলাশয়ের আশপাশ ও গাছপালায় নিয়মিত এদের বিচরণ দেখা যায়। প্রকৃতিপ্রেমী, শিক্ষার্থী ও আলোকচিত্রীদের কাছেও পাখিটি বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।


বামুনশালিকের বৈজ্ঞানিক নাম Sturnia malabarica। ইংরেজি নাম Chestnut-tailed Starling। আকারে প্রায় ২১ সেন্টিমিটার লম্বা এই পাখির মাথা চকচকে কালো এবং ঘাড়ের পেছনে বিস্তৃত কালো ঝুঁটি এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। স্ত্রী ও পুরুষ পাখি দেখতে প্রায় একই রকম।


খাদ্যাভ্যাসের দিক থেকে বামুনশালিক সর্বভুক। পোকামাকড়, ফল, ফুলের মধু, শস্যদানা ও বিভিন্ন ছোট অমেরুদণ্ডী প্রাণী খেয়ে থাকে। মাটিতে খাবার সংগ্রহ করলেও বিশ্রাম ও নিরাপত্তার জন্য উঁচু গাছেই বেশি অবস্থান করে। অন্য শালিকের তুলনায় এদের ওড়ার গতি দ্রুত এবং বিভিন্ন পাখির ডাক অনুকরণ করার ক্ষমতাও রয়েছে।


পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বিচারে গাছ কাটা, জলাভূমি ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস এবং কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে দেশের অনেক অঞ্চলে বামুনশালিকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (IUCN) বৈশ্বিক লাল তালিকায় প্রজাতিটি বর্তমানে "Least Concern" (ন্যূনতম উদ্বেগ) শ্রেণিতে রয়েছে। তবুও স্থানীয় পর্যায়ে এর আবাসস্থল সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


প্রকৃতিবিদদের মতে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শুধু উচ্চশিক্ষার কেন্দ্রই নয়, বরং দেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। শতবর্ষী বৃক্ষ, বিস্তীর্ণ সবুজ এলাকা ও অপেক্ষাকৃত শান্ত পরিবেশের কারণে এখানে দেশি-বিদেশি অসংখ্য পাখির নিরাপদ আবাস গড়ে উঠেছে। বামুনশালিকও তার অন্যতম উজ্জ্বল উদাহরণ।




ছবি:-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ প্রান্তরে খাদ্যের সন্ধানে বিরল বামুনশালিক (শঙ্খশালিক)। নিরাপদ পরিবেশ ও পর্যাপ্ত খাদ্যের কারণে ক্যাম্পাসটি এ প্রজাতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থলে।