
পাশাপাশি দাঁড়িয়ে একটা বড়সড় বৃত্ত বানিয়ে ফেলেছে তাঁরা। মানববৃত্ত।
সবার দুহাত কোমরে। দৃষ্টি সামনে। শুরু হলো মিউজিক। মিউজিকের তালে তালে চলতে থাকলো পিটি। সাত সকালে পিটির মাধ্যমে এভাবেই নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ৫ম কাব ক্যাম্পুরীর প্রথম দিনের কার্যক্রম শুরু হলো।
উপজেলার নিয়ামতপুর সরকারি বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে গত শুক্রবার সকালে এমন দৃশ্য দেখা গেল।
বাংলাদেশ স্কাউটস, নিয়ামতপুর উপজেলা শাখা পাঁচ দিনব্যাপী এ কাব ক্যাম্পুরীর আয়োজন করে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে কাব ক্যাম্পুরীর উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুর্শিদা খাতুন।
তিনি কাব স্কাউটদের উদ্দেশ্যে স্কাউটিং করে দক্ষ, সুনাগরিক, দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহবান জানালেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজাউল করিম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, নিয়ামতপুর সরকারি বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার মন্ডল প্রমুখ।
গত শনিবার বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, তখন কার্যক্রমের বিরতি চলছিল। স্কাউটরা নিজেদের মতো সময় কাটাচ্ছিল।
কেউ বসেছিল, কেউ তাঁবু ঠিক করছিল, কেউ বল খেলছিল, কেউ খাবার পানি সংগ্রহ ব্যস্ত। কিছু কাব স্কাউটকে দেখা গেল কানামাছি খেলায় মেতেছে। একজনের চোখ বেঁধে দিয়ে অন্যরা তাঁকে ছুঁয়ে দৌড়ে পালাচ্ছিল।
কাব স্কাউট মো. সামিউল জানালো, এখন কোনো কার্যক্রম (চ্যালেঞ্জ) নেই। তাই সবাই মিলে কানামাছি খেলছি।
মো. রাফি নামে আরেকজন কাব শিক্ষার্থী জানালো, এখানে এসে অন্য স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে পরিচিত হয়েছি। অনেকের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে গেছে।
মো. আবু হুরাইরা নামে আরেক কাব স্কাউট জানালো, এই কাব ক্যাম্পুরীতে এসে নতুন নতুন জিনিস শিখছি। স্যারের খুব ভালোভাবে আমাদের শেখাচ্ছেন।
সবার সাথে খুব ভালো লাগছে।
এই কাব ক্যাম্পরীর প্রশিক্ষক আনোয়ার হোসেন তোতা জানালেন, এই পাঁচদিনে কাব স্কাউটরা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে। এর মধ্যে রয়েছে বাঁশে হাঁটা, ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ, রিং খেলা, ভারসাম্য দৌড়, কপালে টিপ পরানো ইত্যাদি।
এতে উপজেলার ২৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫০ জন কাব শিক্ষার্থী, ২৫জন ইউনিট লিডার ও ১০জন প্রশিক্ষক অংশগ্রহণ করেছে।
উপজেলা স্কাউটের সাধারণ সম্পাদক
আবু হাসান বাসার বললেন, স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের পাশাপাশি তাদের সুন্দর ও সুশৃঙ্খল জীবন গঠনে উদ্বুদ্ধ করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।