
★চলতি বছর মৃত্যু ১৩০।
★, আক্রান্ত ৪৫ হাজার।
★ রাজশাহীতে একদিনে ১১৬ রোগী ভর্তি।
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫৭১
জন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন ৯ মৃত্যু নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০ জনে। আর এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৪৭৫ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ সময়ে ঢাকা বিভাগে ৭৩৮ জন, খুলনায় ২৪২, চট্টগ্রামে ১৭৭, বরিশালে ১৪২, ময়মনসিংহে ৭৭, রাজশাহীতে ১১৬, রংপুরে ৭১ এবং সিলেটে ৮ জন ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৯৬ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সেপ্টেম্বরেই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা:-
চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, বর্ষা শেষ হওয়ার আগেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার দ্রুত বেড়ে যাওয়া। এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চারজনের মৃত্যু এবং ১ হাজার ৩১৪ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ওই সময় পর্যন্ত সেপ্টেম্বরে প্রথম সাত দিনেই ডেঙ্গুতে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
৮ সেপ্টেম্বরের নতুন ৯ মৃত্যু যোগ হওয়ায় সেপ্টেম্বরের প্রথম আট দিনেই মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়ে গেল। এর আগে আগস্ট মাসে ডেঙ্গুতে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর বিস্তার যে নতুন করে তীব্র হচ্ছে, সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।
হাসপাতালে চাপ বাড়ছে:-
নতুন রোগী বাড়ার পাশাপাশি হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড় পাওয়া রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৪১৮ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। এ পর্যন্ত মোট ৪২ হাজার ১২৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
তবে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীর চাপও বাড়ছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সও সেপ্টেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের দ্রুত বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকট ও চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপের কথা জানিয়েছে।
আগের দুই বছরের তুলনায় পরিস্থিতি:-
সরকারি হিসাবে, ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মারা যান ৪১৩ জন। এর আগের বছর ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের।
তবে ডেঙ্গুর ভয়াবহতার দিক থেকে সর্বোচ্চ অবস্থান এখনো ২০২৩ সাল। ওই বছর দেশে রেকর্ড ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মৃত্যু হয় ১ হাজার ৭০৫ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান বলছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নেই; দেশের বিভিন্ন বিভাগেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। চলতি বছরের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার হিসাবেও ঢাকা ছাড়াও খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, রংপুর ও সিলেটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ, নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম এবং জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে বলে ডেঙ্গু রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।