Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Tuesday , ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৪৭ অপরাহ্ন

নিরাপত্তা নাকি গোপনীয়তার সংকট? চারপাশের ক্যামেরা নিয়ে নতুন বিতর্ক

অনলাইন ডেস্ক ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজের আশপাশে কতগুলো নজরদারি ক্যামেরা রয়েছে? তা খুঁজতে বেরিয়ে বিস্মিত হয়েছেন একজন সাংবাদিক। কয়েক কদম হাঁটার মধ্যেই তার চোখে পড়ে ১৬টি ক্যামেরা। এরপর যত এগিয়েছেন ততই বেড়েছে ক্যামেরার সংখ্যা।


যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের এই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে বিবিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরজুড়ে সরকারি সংস্থা, পুলিশ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ভবনের স্থাপন করা অসংখ্য ক্যামেরা মানুষের চলাফেরা নজরদারির আওতায় আনছে।


নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের নজরদারি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ৮০ হাজারের বেশি ক্যামেরা। এর পাশাপাশি রয়েছে ড্রোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য এবং গাড়ির চলাচল পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন প্রযুক্তি। ফলে একজন ব্যক্তি কোথায় যাচ্ছেন বা কার সঙ্গে দেখা করছেন সেই তথ্যও বিভিন্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে নজরদারির আওতায় আসতে পারে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এমন নজরদারি অবকাঠামো দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। এর মধ্যে আলোচনায় রয়েছে ফ্লক সেফটি নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ছয় হাজার এলাকায় তাদের এক লাখের বেশি ক্যামেরা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি গাড়ি শনাক্ত ও চলাচল পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি মুখমণ্ডল শনাক্তের মতো সুবিধাও দেয়।


তবে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিতর্কও বাড়ছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, অপরাধ দমনের নামে গড়ে ওঠা এই বিশাল নজরদারি ব্যবস্থা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। বিভিন্ন ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।


অন্যদিকে নজরদারি প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, নিখোঁজ শিশু খুঁজে বের করা, হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধের তদন্ত এবং চুরি যাওয়া যানবাহন উদ্ধারে এসব প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদের মতে, প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে প্রয়োজন স্পষ্ট আইন ও জবাবদিহিতা।


বিশেষজ্ঞদের মতে, নজরদারির পরিধি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতন হওয়া জরুরি। কোথায় কোন ধরনের ক্যামেরা বসানো আছে, সে তথ্য জানার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ম্যাপভিত্তিক উদ্যোগও রয়েছে। তবে এসব তথ্যভান্ডার সব জায়গার সম্পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না।


প্রতিবেদনটির মূল প্রশ্ন একটাই- নিরাপত্তা বাড়াতে গিয়ে মানুষ কি ধীরে ধীরে এমন এক সমাজে প্রবেশ করছে। যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপই কারও না কারও নজরে থাকছে? প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজাও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

--সংগৃহীত ছবি