
কুমিল্লায় স্কুলছাত্র অপ্রতিম হত্যা মামলায় সরাসরি জড়িত তিন আসামি ও সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার অপর একজনসহ চার আসামিকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে বয়স কম হওয়ায় তাদের মধ্যে দুই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, রোববার রাতে আমরা চারজনকে কুমিল্লা কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছি। আদালত দুই কিশোর ফাহাদ ও কামরুলকে সংশোধনাগারে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছেন। অপর দুই আসামি তুহিন (১৯) ও সিয়াম (১৮) কুমিল্লা কারাগারে থাকবে।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, পুলিশ একটি হত্যা মামলায় রোববার রাতে চার আসামিকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। তাদের মধ্যে দুই কিশোরকে সোমবার গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হবে।
এর আগে, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান অপ্রতিম ওই দিন বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয়ে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজের ডায়েরি করেন।
পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা গ্রামের একটি ঝোপ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সাইফুল ইসলাম তুহিনকে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও তিনজনকে আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে চারজনকে অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তারা হলেন- সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৬), কামরুল হাসান (১৫) ও মো. সিয়াম (১৮)।
রোববার বিকেলে তাদের কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে সিয়াম ছাড়া অপর তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
অপ্রতিম কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।