Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Wednesday , ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:০৭ অপরাহ্ন

পবা থানায় মামলার পরিবর্তে অভিযোগের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী

রাজশাহী প্রতিনিধি :- ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হারুনের সাথে দ্বন্দের সূত্রপাত দীর্ঘদিনের। ভুক্তভোগী হারুন ১৭ সালে আদলতের রায়ে পৈতৃক জমি বুঝে পেয়েছেন। আলাদত রায় দিলেও হারুনের সৎ ভাইয়েরা জমি দিতে নারাজ। এরপর ধাপে ধাপে উভয় পক্ষের একাধিক মামলা চলমান। জমিটি নিয়ে সর্বশেষ ঘটনা গত ১৫ সেপ্টেম্বর। ঘটনাটি পবা উপজেলার খন্ডক্ষেত্র গ্রামের।


গত ১৫ সেপ্টেম্বর জমি সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরে খন্ডক্ষেত্র গ্রামের মৃত আ: করিম দেওয়ানের ছেলে হারুনুর রশীদকে মারধর করে তার সৎ ভাই ময়েন দেওয়ান, আমিনুল দেওয়ান, একরাম দেওয়ান, ইব্রাহিম দেওয়ান, ভাবি আকলিমা, শাহানাজ, সৎবোন ছামেনাসহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন। 


মারধরের পর হারুন ও তার স্ত্রী শ্যামলীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসা করে স্ত্রীকে হাসপাতালে  রেখে পবা থানায় মামলা করতে যান ভুক্তভোগী হারুন। কিন্তু থানায় প্রবেশের পর হারুন হতভম্ব হন।  তিনি দেখেন, যারা তাকে মারধর করেছে অর্থাৎ যাদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে এসেছেন, তারা আগে থেকে থানায় ওসির রুমে অবস্থান করছেন। 


তবুও বুকে সাহস রেখে থানায় পুলিশের সাথে কথা বলেন। সে সময় ডিউটি অফিসারের টেবিলে বসা নাদিম নামক এক এসআই। তিনি তার (হারুন) থেকে ঘটনা জানতে চান এবং জমির কাগজপত্র দেখতে চান। এসময় তিনি বলেন এই জমির ব্যাপারে তিনি অবগত আছেন। 


উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই না করে  একরাম দেওয়ান গংদের কাগজ আপডেট রয়েছে বলে জানান পুলিশের ঐ কর্মকর্তা। এরপর তিনি ওসির কক্ষে গেলে ওসি সাহেব উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই না করে হারুনের কাগজের ফটোকপি নেন এবং বিবাদীদের বলেন, তারা যেন হারুনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেন। 


হারুনের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করতে চাইলে ওসি সাহেব মামলা না নিয়ে একটি অভিযোগ দিতে বলেন। একই সঙ্গে তিনি বিবাদীপক্ষকেও অভিযোগ দিতে বলেন। এভাবে সাংবাদিকদের সামনে ঘটনার বিবরণ দিচ্ছিলেন একটি সংবাদ সম্মেলনে।  


মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪.০০ টার সময় পবা উপজেলার মথুরা তালতলার মোড়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নায্য বিচার চেয়েছেন ভুক্তভোগী হারুনুর রশীদ। এসময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেন। 


তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমার পিতা আব্দুল করিম দেওয়ান ১৯৮৯ সালে হেবা শর্তে আমার সৎ ভাইদের নামে একটি খতিয়ানের ৯৪ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। জমিটির বিবরণ, মৌজা: আমগাছী, খতিয়ান নম্বর: ১০০ (আরএস), জেএল নম্বর: ১০৮। কিন্তু জমি রেজিস্ট্রির কয়েক মাস পরই দলিলের মাধ্যমে ওই জমি পুনরায় ফেরত নেওয়া হয়। ফেরত ওই দলিলের নম্বর ৬১১৩/৮৯। জমি ফেরত নেওয়ার বিষয়টি গোপন রেখে আমার সৎ ভাইয়েরা পরবর্তীতে আমাকে ও আমার মাকে আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেন।


এরপর জমিতে আমার ন্যায্য অংশ পাওয়ার দাবিতে আমি ২৯ নভেম্বর ২০০৭ সালে আদালতে মামলা করি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০১৫ সালে আমি আদালতের ডিক্রি লাভ করি। ওই ডিক্রির মাধ্যমে একটি দাগে ৩ শতক এবং অন্য একটি দাগে ১৩ শতক, মোট ১৬ শতক জমিতে আমার প্রাপ্য অংশ নির্ধারিত হয়।পরবর্তীতে ২৪ অক্টোবর ২০১৭ সালে আদালতের নেজারত বিভাগ ও পবা থানার পুলিশ উপস্থিত থেকে ঢোল-শহরত করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমাকে ওই জমি বুঝিয়ে দেয় এবং সেখানে লাল নিশান পুঁতে দেয়। ওই সময় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।


সর্বশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের আরেকটি ঘটনা ঘটে। বিষয়টি কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে আলোচনা করলে সাংবাদিকরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হারুনের স্ত্রীর ভিডিও সাক্ষাৎকার নেন এবং সেই ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করেন। 


ওই ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশের পর পবা থানার ওসি ক্ষুব্ধ হয়ে ভিন্ন মন্তব্য করেন। শুধু তাই নয়, ভিডিওটির কমেন্টবক্সে কয়েকটি ফেক আইডি ব্যবহার করে  হারুনকে মাদক কারবারি হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাই তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন।


পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের ব্যাপারে কথা হয় রাজশাহী মেট্রেপলিটন পুলিশের মিডিয়া মুখ্যপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) গাজিউর রহমান বলেন, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পবা থানায় মামলার পরিবর্তে অভিযোগের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী