
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারকে ঘিরে অর্থ লেনদেন ও আর্থিক হিসাবের একাধিক অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে।
এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতা এস এম খালিদুজ্জামানের কাছ থেকে ছাত্রশিবিরের পরিচয় ব্যবহার করে কয়েক লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি রাকসুর তহবিল থেকে নেওয়া ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকার মধ্যে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ব্যয়ের বিল-ভাউচার জমা না দেওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়াকে কেন্দ্র করে আম্মার ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে এসব তথ্য সামনে আসে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক আহমেদ আহসানউল্লাহ ফারহান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন, সালাউদ্দিন আম্মার বিভিন্ন সময়ে শিবির নেতা পরিচয়ে ডা. এস এম খালিদুজ্জামানের কাছ থেকে বিভিন্ন কাজের কথা বলে কয়েক লাখ টাকা নিয়েছেন।তাঁর দাবি, কিছুদিন আগেও আম্মার দুই লাখ টাকা নিয়েছেন।
ফারহানের পোস্টে আরও দাবি করা হয়, অর্থের ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিয়ে খালিদুজ্জামানের সন্দেহ তৈরি হওয়ায় তিনি আম্মারকে আর সহযোগিতা না করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের মাধ্যমে অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে কয়েক লাখ টাকার মোট অঙ্ক, কোন কোন খাতে কত টাকা নেওয়া হয়েছিল এবং ওই অর্থের ব্যবহার কী হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
অন্যদিকে আম্মার দাবি করেছেন, গত ৬ আগস্ট তিনি খালিদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাবির জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসাসামগ্রী চান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৭ আগস্ট অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার অনুমোদন হয় এবং ২১ আগস্ট তিনি ঢাকায় গিয়ে খালিদুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
পরে তিনি আরও একটি অ্যাম্বুলেন্সের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি অ্যাম্বুলেন্স হয়ে যাওয়ায় ওই অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ লাখ টাকার জরুরি তহবিল গঠনের পরিকল্পনার কথাও তিনি বলেন।
অ্যাম্বুলেন্সটি কার উদ্যোগে এসেছে—এ নিয়ে আম্মার ও শিবিরের বক্তব্যও পরস্পরবিরোধী। আম্মার দাবি, তিনিই আগে খালিদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। অন্যদিকে, শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেছেন, ২০২৪ সালের শুরু থেকেই সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাসেবা উন্নয়নের বিষয়ে খালিদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল।
অন্য একটি প্রতিবেদনে রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের নথির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ৪২টি কর্মসূচির বিপরীতে রাকসুর বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তি মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিল-ভাউচার জমা হয়নি।
নথি অনুযায়ী, জিএস সালাউদ্দিন আম্মার সাত ধাপে মোট ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ব্যয়ের বিল-ভাউচার তখনও জমা পড়েনি।
আম্মারকে ঘিরে এর আগেও শিবিরের সাংগঠনিক নথিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের উল্লেখ পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের একটি চিঠিতে তাঁর বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগের কথা বলা হয়। পরবর্তী আরেকটি চিঠিতে ‘অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন’ ও সম্পদ তসরুপের অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। শিবিরের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, ২০২৫ সালেই আম্মারের ‘সাথী’ পদ বাতিল করা হয়।
তবে, আম্মার এসব অভিযোগের উপযুক্ত প্রমাণ দাবি করেছেন এবং অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।