
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনার পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতাকর্মী ও হল প্রশাসনের প্রভোস্ট ড. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে। হামলার ঘটনায় নিজেদের দায় আড়াল করতেই গুরুত্বপূর্ণ আলামত মুছে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা।
রবিবার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলার ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলের সামনের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে ওই ফুটেজ আর পাওয়া যায়নি।ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি হল প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ফুটেজ সংরক্ষণের পরিবর্তে তা মুছে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ কে, কখন এবং কীভাবে মুছে ফেলেছে তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা বিষয়টি ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।হামলায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
আহত সাংবাদিকরা হলেন বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ-উজ-জামান কোরবান, দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নূর আহসান মৃধুল, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাইনুল ইসলাম রাজু।
তবে শহীদ জিয়াউর রহমান হল প্রধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান বলেন, “সংস্কার কাজ চলমান থাকায় তখন সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। সেজন্য কোনো ফুটেজ নাই। ফুটেজ ডিলিট করার অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা। ঘটনার পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্ব-উদ্দ্যোগে হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে গেছিল। এখন তারা ফুটেজ না পেয়ে এ ধরনের অভিযোগ করছে।”
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. আবদুল আলীম বলেন, “তথ্যগুলো সংরক্ষিত আছে। অভিযোগ যে কেউ করতে পারে। ডকুমেন্টসের কোনো অভাব নেই। তদন্ত কমিটি যেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করার সেখান থেকে করছে।”
প্রসঙ্গত, ৪ অক্টোবর ২০২৬ রাবির শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে কর্মরত সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনায় অন্তত ৪ জন সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ প্রায় ১০ জন আহত হন এবং তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একটি ভিডিও ধারণ ও ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত ঘটে, যেখানে রাবি প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়। এই নৃশংস হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসের সাংবাদিকরা দোষীদের গ্রেপ্তার ও ছাত্রত্ব বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলার আশ্বাস দেয় এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদল বিষয়টির তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে।