Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Tuesday , ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৩:১৯ অপরাহ্ন

চাপের মুখে পদত্যাগ: বিতর্কের আড়ালে ঢাকা পড়ল রামেবি উপাচার্যের স্থায়ী ক্যাম্পাস ও গবেষণার স্বপ্ন

বিশেষ প্রতিবেদক, রাজশাহী:- ০৬ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন। চার বছরের মেয়াদে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি এ পদে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও মেয়াদ পূরণের বহু আগেই মব সংস্কৃতি ও চাপের মুখে মঙ্গলবার তাঁর এ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বিভাগের এক সেকশন অফিসারও চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন জমা দেন।

​সংবাদ মাধ্যমে আসা তথ্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও নিয়োগে নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে সম্প্রতি ক্যাম্পাসে আন্দোলন ও পদত্যাগের দাবি তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত কিংবা চূড়ান্ত কোন বিচারিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে উপাচার্য নিজেই একাধিকবার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিলেন। 

এই পরিস্থিতিতে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি প্রক্রিয়ার বদলে চাপের মুখে উপাচার্যকে পদত্যাগে বাধ্য করা নিয়ে সুশীল সমাজ ও শিক্ষাবিদদের মনে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।

​মেধা-শ্রম ও স্বপ্নের অপমৃত্যু:-

দায়িত্ব গ্রহণের পরই ডা. জাওয়াদুল হক রামেবিকে আন্তর্জাতিক মানের একটি চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষণা ও স্নাতকোত্তর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেন। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে তিনি স্থবির হয়ে থাকা স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণকাজকে গতিশীল করেন।

​রাজশাহী নগরীর সিলিন্দা এলাকায় চলমান রামেবির বিশাল স্থায়ী ক্যাম্পাস ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পে উপাচার্য ও প্রকল্প পরিচালক হিসেবে তিনি সরাসরি তদারকি করে আসছিলেন। অতি সম্প্রতি, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে রামেবির অবকাঠামো পরিদর্শনে আসা উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সার্বিক নির্মাণকাজের গুণগত মান ও সন্তোষজনক অগ্রগতি দেখে তাঁর গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রকল্পের বড় বড় নির্মাণ প্যাকেজের দরপত্র আহ্বান এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তাঁর শ্রম ছিল দৃশ্যমান।

​অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি রামেবিতে স্নাতকোত্তর (পোস্টগ্র্যাজুয়েশন) কোর্স চালুকরণ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে আধুনিক গবেষণা কার্যক্রম শুরু করাই ছিল তাঁর মূল একাডেমিক লক্ষ্য। তবে এই বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই বিতর্ক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে থমকে গেল তাঁর পদযাত্রা।


​মব সংস্কৃতি ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের দাবি:

বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি স্বায়ত্তশাসিত ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়াই আইনি বিধান। কিন্তু তদন্ত ছাড়াই জনতা বা নির্দিষ্ট গ্রুপের চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে পদত্যাগে বাধ্য করার নজির প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালন ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ।

ভিসি ডা. জাওয়াদুল হক জানান, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা কিছু স্থানীয় ঠিকাদার ও বহিরাগতরা হঠাৎ জোর করে তার অফিসে প্রবেশ করে। স্থানীয়দের কাজ না দিয়ে ঢাকার ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে তারা তাকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা জোরপূর্বক একটি পদত্যাগপত্রে তার স্বাক্ষর আদায় করে এবং তাকে অফিস থেকে বের করে দিয়ে কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। ভিসি ইতোমধ্যে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছেন।

​সচেতন মহলের মতে, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর পাশাপাশি অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হকের দুই বছরের মেয়াদের ইতিবাচক উদ্যোগ, অবকাঠামোগত অবদান এবং একাডেমিক উন্নয়নের সততা ও মেধার সঠিক মূল্যায়ন হওয়া আবশ্যক। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ভাসিত হওয়া উচিত—যাতে একদিকে অনিয়ম প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, অন্যদিকে একজন প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও চিকিৎসকের সততা ও মেধা যেন অযথা বলির পাঁঠা না হয়।




রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন।