Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Friday , ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৬:১০ অপরাহ্ন

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যকে লাঞ্ছনাকারীরা রাষ্ট্র ও জনগণের শত্রুঃ ভূমিমন্ত্রী

আবুল কালাম আজাদ ০৯ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মব সৃস্টি করে হেনস্তাকারীদের রাষ্ট্র ও জনগণের শত্রু বলে আখ্যায়িত করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেছেন, অপরাধীদের কোনো দল নেই, দলীয় পরিচয়ও নেই। এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয় পরিদর্শন ও উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ভূমিমন্ত্রী উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হককে তাঁর চেয়ারে সসম্মানে বসিয়ে দেন। পরে তাঁরা চা-চক্রে মিলিত হন।

এসময় ভূমিমন্ত্রী বলেন, “আমরা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। এ ধরনের ঘটনার আর কোন পুনরাবৃত্তি রাজশাহীতে দেখতে চাই না,হতেও দেবনা। একজন শিক্ষাবিদকে এভাবে লাঞ্ছিত করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমি বিষয়টি শোনার পর থেকেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা মেনে নেওয়া হবে না। রাজশাহী শান্তির শহর, এ শহরে কোনোভাবেই মব কালচার সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না।”ভবিষ্যতে কেউ যদি মাপ কালচার সৃষ্টির চেষ্টা করে কবে তার বিষ দাঁত ভেঙে দেওয়া হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে ভূমি মন্ত্রী  আরও বলেন, ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু অগ্রগতি হয়েছে। হাসপাতালের অনুমোদন পাওয়া গেছে, যা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে।সঠিক সময়ে সংবাদ প্রকাশ করে বিষয়টি সবার সামনে তুলে ধরার জন্য  সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, “বিষয়টি শোনার পর থেকেই আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছি। আমরা এ ধরনের ঘটনা আর দেখতে চাই না।এ শহরে সকলেই আমরা মিলেমিশে সহ অবস্থানে থাকতে চাই। 

এ সময় রামেবির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হক ভূমিমন্ত্রীর সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেন, ‘রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু সবসময় অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাতেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং আশ্বস্ত করেছেন। তার এই সহযোগিতা ও আন্তরিকতা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।’

ঘটনার পরপরই ভূমিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিব, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয় উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, তারা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

রামেবির উন্নয়ন প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যমান অবকাঠামো তেমন ছিল না। দায়িত্ব নেওয়ার পর এর কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়েছে। ইতোমধ্যে চারটি বড় প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্পটির অনুমোদনও হয়েছে।’ এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রামেবি উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির (পিপিএম), রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান জনি, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি এবং মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব এমদাদুল হক লিমন।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।