
এক সপ্তাহের ব্যবধানে নিত্যপণ্যের বাজারে বেড়েছে আদা, রসুন, পেঁয়াজ ও আলুর দাম। যা বাড়তি চাপ ফেলছে সাধারণ ক্রেতার ওপর। তবে, স্বস্তির দিক হলো, চাল, ডাল, ডিম, ভোজ্যতেল ও মাংসের দাম আগের সপ্তাহের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর শনিরআখড়া ও রায়েরবাগ বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি আদা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে; যা কয়েক দিন আগেও ছিল ৯৫-১০০ টাকা। বড় রসুন ৩০ টাকা বেড়ে কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়, ছোট রসুন বিক্রি হচ্ছে ৮৫-৯০ টাকায়। মানভেদে পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৪৮-৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৪-৪৮ টাকা।
রায়েরবাগ বাজারের বিক্রেতা আনিস বলেন, বাজারে ক্রেতা এমনিতেই কমে গেছে। কিনতে এসেও দাম শুনে অনেকে চলে যাচ্ছেন। আদা-রসুনের দাম আরো বাড়তে পারে। আগের তুলনায় বেচাকেনা কমেছে।
তিনি বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। তবে, দাম বাড়লে ক্রেতারা পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ায় বিক্রিও কমে যাচ্ছে।
খুচরা বাজারে লাল ও সাদা দুই ধরনের আলু ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১-২ টাকা দাম বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আলুর দাম খুব বেশি না হলেও আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। ক্রেতারা এখন দাম জিজ্ঞেস করে পরিমাণ ঠিক করছেন।
শনিরআখড়া ও রায়েরবাগ বাজারে মাছের দামে আকার ও ধরনভেদে পার্থক্য রয়েছে। পাঙ্গাশ, তেলাপিয়াসহ চাষের মাছ প্রায় ২০০-২৬০ টাকা কেজি এবং রুই-কাতলা ৩৮০-৪২০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮০০ টাকা কেজি দরে। খাসির মাংস ১ ২৫০-১৩০০ টাকা এবং ছাগলের মাংস ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, মাংসের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও বিক্রি আগের মতো নেই। দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতা সপ্তাহে একদিন বা বিশেষ দিনে মাংস কিনছেন।
বাজারে ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১৫০-১৫৬ টাকা এবং সাদা ডিম ১৪০-১৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্রয়লার মুরগি বড় সাইজ ১৮০ টাকা, মাঝারি ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা এবং হাইব্রিড সোনালি বা কালারবার্ড ২৯০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, ডিম ও মুরগির দাম এই সপ্তাহে তেমন পরিবর্তন হয়নি। তবে দাম অপরিবর্তিত থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা ও কেনার পরিমাণে কিছুটা কমতি রয়েছে।
চালের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। বিআর-২৮ চাল ৪৭-৪৮ টাকা, মিনিকেট ৬৮-৬৯ টাকা, নাজিরশাইল ৮৪-১০০ টাকা এবং চিনিগুড়া ১৯০-২১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
রায়েরবাগের চাল ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, চালের দাম তেমন বাড়েনি। কিন্তু বিক্রি কমেছে। মানুষ আগের মতো একসঙ্গে বেশি চাল কিনছেন না।
বাজারে দেশি মসুর ডাল ১৫০-১৮০ টাকা, ভারতীয় মসুর ডাল ৯০-১০০ টাকা, ছোলা ১১০-১২০ টাকা এবং বুট ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকা দরে।
ক্রেতারা বলছেন, চাল-ডাল ও তেলের মতো প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম খুব বেশি না বাড়লেও সব পণ্যের মোট খরচ মিলিয়ে মাসের বাজেটে চাপ তৈরি হচ্ছে।
সরবরাহের ওপর নির্ভর করে সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজির দামে কিছুটা ওঠানামা হয়েছে। বাজারে চিচিঙ্গা ৫০-৬০ টাকা, ধুন্দল ৪০-৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০-৭০টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৩০-৪৯ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
রায়েরবাগ বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মুনিরা খাতুন বলেন, বেতন বাড়েনি। কিন্তু বাজারের খরচ শুধু বেড়েই চলেছে। হিসাব মেলাতে বাধ্য হয়ে কেনাকাটার পরিমাণ কমাতে হয়েছে।
আরেক ক্রেতা আরিফুল ইসলাম বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য না কিনে উপায় নেই। এসব তো লাগবেই। মাসিক সঞ্চয় কমিয়ে সংসারের খরচ সমন্বয় করতে হচ্ছে।
বিক্রেতাদের বলছেন, পণ্যের দাম বাড়লে শুধু ক্রেতার ওপরই চাপ পড়ে না, ব্যবসায়ীদের বিক্রিও কমে যায়। বিশেষ করে মাছ, মাংস ও মসলাজাতীয় পণ্যে ক্রেতারা এখন প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে কিনছেন।