
গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি হিসেবে খ্যাত রাজশাহী মহানগরীকে আরও দৃষ্টিনন্দন, ঝকঝকে ও বর্ণিল করে সাজাতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক সৌন্দর্যবর্ধন উদ্যোগ।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মাহফুজুর রহমান লিটনের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনা ও অক্লান্ত প্রচেষ্টায় নগরীর অলিতে-গলিতে বইছে নান্দনিকতার ছোঁয়া।
সরকারি স্থাপনাগুলোর সীমানা প্রাচীরে আঁকা হচ্ছে বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গ্রামীণ রূপসী বাংলার চিত্রমালা।
দেয়ালে দেয়ালে ইতিহাস ও গ্রামীণ রূপ:-
নগরীর রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের সীমানা প্রাচীর থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান সড়কসংলগ্ন সরকারি সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দেওয়ালে চলছে দেয়াল অংকন বা ম্যুরাল আর্টের কাজ। ক্যানভাসে রূপ নেওয়া এসব দেয়ালে ফুটে উঠছে—
মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় চেতনা: জাতীয় স্মৃতিসৌধ, লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা হাতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবয়ব ও স্বাধিকার আন্দোলনের দৃশ্য।
গ্রামীণ সৌন্দর্য ও মানচিত্র: বাংলাদেশের মানচিত্র, নদীমাতৃক বাংলার শান্ত-সুনিবিড় রূপ, মেঠোপথ ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের চোখজুড়ানো চিত্রকর্ম।
এতে করে পুরনো ও মলিন দেয়ালগুলো মুছে গিয়ে নগরীতে যোগ হয়েছে এক নতুন নন্দনতত্ত্ব, যা পথচারী ও দর্শনার্থীদের সহজেই মুগ্ধ করছে।
লাল-সবুজের স্পর্শ ও আলোকসজ্জা:-
নগরীর সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে রাস্তার পাশের ল্যাম্পপোস্ট ও নিরাপত্তা বেষ্টনীতে (ল্যাম্পকোট) ব্যবহার করা হচ্ছে জাতীয় পতাকার চিরচেনা লাল-সবুজ রঙ। এছাড়া শহরের পোল ও লাইটপোস্টগুলোতে সংযোজন করা হয়েছে বিভিন্ন আকৃতির আকর্ষণীয় রঙিন বাতি। সন্ধ্যানামে নানারঙের এই আলোর দ্যুতি পুরো নগরীকে যেন এক স্বর্গীয় সৌন্দর্যে রূপ দেয়।
নগরবাসীর উচ্ছ্বাস:-
স্থানীয় বাসিন্দারা রাসিকের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, প্রাচীরের রঙিন দেয়াল চিত্র এবং রাতের আলোর ঝলকানি রাজশাহী শহরের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক রাখার এই ধারা অব্যাহত থাকলে রাজশাহী দেশজুড়ে রূপান্তরের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
রাসিক সূত্রে জানা গেছে, নগরীর পরিবেশ রক্ষা ও দৃষ্টিনন্দন করার এই নান্দনিক উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে মহানগরীর অন্যান্য সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রসারিত করা হবে।