Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Monday , ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৫:৫৯ অপরাহ্ন

রাত পোহালে আসছেন প্রধানমন্ত্রী,উন্নয়নের নানা দাবিতে প্রহর গুনছেন নগরবাসী

আবুল কালাম আজাদ বিশেষ প্রতিনিধি :- ১৯ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে রাজশাহীতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। রাত পোহালেই ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় যোগ দেওয়ার পাশাপাশি শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন রাজশাহীবাসী।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এমপি। তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে সফরের প্রস্তুতি নিতে হলেও রাজশাহীর মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আবেগ কাজ করছে। 

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটিই প্রথম রাজশাহী সফর। তাঁর আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ সফরে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে আখচাষিদের জন্য প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বার্তা দেবেন।


সফরটিকে তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে তারেক রহমানের এ আগমন রাজশাহীর মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সফরে রাজশাহীর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি ও প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বীজ সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, রাজশাহী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা এবং পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি রাজশাহী নগরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শিক্ষা নগরী’ ঘোষণার দাবিও রয়েছে। শিল্পমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের উপস্থিতিতে রাজশাহীর উন্নয়নসংক্রান্ত এসব দাবি তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উন্নয়নের নানা দাবিতে প্রহর গুনছেন নগরবাসী:-

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন (২০ অক্টোবর) রাজশাহী সফর ও ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভাকে কেন্দ্র করে পুরো বরেন্দ্র অঞ্চলে বইছে উৎসবের আমেজ। 

প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই সফরকে ঘিরে রাজশাহীবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রত্যাশার পারদ। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থান খাতের উন্নয়নে সফরকালে বেশ কিছু যুগান্তকারী ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন রাজশাহীর স্থানীয় বাসিন্দারা।

​সম্প্রতি ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী  স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের যেসব প্রধান উন্নয়ন-প্রত্যাশা উঠে এসেছে, সেগুলো হলো:

​১. রাজশাহী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ:-

উত্তরাঞ্চলের সাথে বৈশ্বিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার এবং প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াত সহজ করতে রাজশাহী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার জোর দাবি জানাচ্ছে নগরবাসী।

​২. কৃষিভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন:-

রাজশাহী ও এর আশপাশের জেলাগুলোর উৎপাদিত কৃষিপণ্যের সঠিক ব্যবহার, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষ্যে একটি কৃষিভিত্তিক ইপিজেড স্থাপনের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষ। এটি বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

​৩. পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা:-

বরেন্দ্র অঞ্চল কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এখানে কোনো বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নেই। এই অঞ্চলের কৃষি গবেষণা, উন্নত জাত উদ্ভাবন ও আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির বিকাশে রাজশাহীতে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিনের।

​৪. রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা:-

উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর আকুল আবেদন রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা প্রত্যাশীদের।

​৫. আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শিক্ষা নগরী’ ঘোষণা:-

রাজশাহী প্রাকৃতিকভাবেই দেশের অন্যতম প্রধান শিক্ষানগরী হিসেবে পরিচিত। তবে নগরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শিক্ষা নগরী’ হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি প্রদান ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

​৬. বীজ সংরক্ষণ ও আখচাষিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা:-

কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে উন্নত মানের বীজ সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চিনিশিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আখচাষিদের সার্বিক সহযোগিতায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

​স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিএনপি নেতৃবৃন্দের মতে, এই প্রদেয় দাবি ও প্রত্যাশাগুলো বাস্তবায়িত হলে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে রাজশাহীর সম্ভাবনা আরও বহুগুণ বিস্তৃত হবে এবং উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে এক নতুন গতি সঞ্চারিত হবে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সোমবার ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ পরিদর্শন করেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন এবং রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ।

এ ছাড়া পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার ফয়েজুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি ও জনসভাস্থলের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন।




সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এমপি।