Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Monday , ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ০২:৩৯ অপরাহ্ন

শ্রমিক বিক্ষোভে আজও দুই শতাধিক কারখানা ছুটি ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক ০২ নভেম্বর ২০২৬

ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণের দাবিতে আজও গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে সকাল থেকে বিক্ষোভ করছেন পোশাক শ্রমিকরা। একই দাবিতে আশুলিয়া, সাভার ও রাজধানীর মিরপুরেও চলছে বিক্ষোভ।


এদিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ করে একই দাবিতে আন্দোলন করছেন কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় এসব এলাকায় আজ সোমবারও দুই শতাধিক পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।


শিল্প পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব এলাকায় সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২১০টির মতো পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুরে ১৫০ পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে সংশ্লিষ্টরা।


এ ছাড়া সাভার-আশুলিয়া শিল্প অঞ্চলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০টির মতো কারখানা বন্ধ করা হয়েছে। এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।


গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আজ ১৫০টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলছে।

 

সকাল থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। এ ছাড়া কোনাবাড়ী, সফিপুর ও মৌচাক এলাকার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরাও মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। 


বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।


পুলিশ সুপার জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।


এদিকে সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এ সময় বিক্ষোভের মধ্যে একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।


সংঘর্ষ ও উত্তেজনার জেরে শিল্পাঞ্চলের অর্ধশতাধিক পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে এই সংখ্যা কত, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া। শ্রমিক ও কারখানা মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুর ১২টা পর্যন্ত অর্ধশতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।


লিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, 'শিল্পাঞ্চলের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ কাজ করছে।'


গতকাল রবিবার গাজীপুর, আশুলিয়া ও সাভারে তিন শতাধিক কারখানা বন্ধ ছিল।


এ ছাড়া রাজধানীর মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১২ নম্বর পর্যন্ত প্রধান সড়কে পোশাক শ্রমিকরা রয়েছেন। গতকাল সংঘর্ষের পর আজ সড়ক অবরোধ করেননি তারা। ফলে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। উপস্থিত রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। মিরপুর-১০ থেকে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ছাড়া কাফরুল থানা পুলিশ আরো পাঁচজনকে আটক করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এদিকে সকালে মিরপুর-১১ নাম্বারে কয়েক দফায় পুলিশের সঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।


'সীমান্তের ওপারের ইশারায় অস্থিতিশীল'


আজ সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তার দাবি, শ্রমিক আন্দোলনের নামে সীমান্তের ওপারের ইশারায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছেন।


শ্রমিক আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ হয়। তাদের জীবন মানের উন্নতি হয় এবং তাদের সমস্ত বিষয় বিবেচনা রেখে অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে সে বিষয়টি (ন্যূনতম মজুরি) নির্ধারিত হয়। এটা উভয়পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবতার নিরিখে নির্ধারিত হবে।


পতিত স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের কিছু পক্ষ নিরীহ শ্রমিক ভাইবোনদের ব্যবহার করে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


বিকেলে শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠকে মন্ত্রী চলমান আন্দোলন ও তাদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের বিষয়ে কথা আলোচনা হবে।


পরিস্থিতি উন্নতি না হলে কারখানা বন্ধ রাখবেন মালিকরা


পোশাকশিল্প এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কারখানা বন্ধ রাখতে বাধ্য হবেন মালিকরা। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।


শিল্পাঞ্চলে অসন্তোষের উদ্ভুত পরিস্থিতিতে, পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ'র উত্তরা অফিসে গতকাল রবিবার সভা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন করে মজুরি বোর্ড গঠন হওয়ার পরও যদি শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেন, তাহলে শ্রম আইনের ১৩/১ ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধ রাখা হবে।


বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু জানান, মজুরি বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিকরা কাজ না করেন, তাহলে রোজ রোজ কারখানা চালু রাখা কঠিন হবে। সেক্ষেত্রে শ্রম আইনের ১৩/১ ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধ রাখতে পারবে মালিকরা।


শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেওয়ায় গত রবিবার ৫২৯টি কারখানা তাদের উৎপাদন কাজ চালাতে পারেনি বলেও জানান তিনি।

সংগৃহীত ছবি