Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Wednesday , ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | ১২:২০ অপরাহ্ন

বরেন্দ্র অঞ্চলে সোনালী ধানের সমারোহ, বাম্পার ফলনের আশা কৃষকের

আবুল কালাম আজাদ , রাজশাহী:- ০৪ নভেম্বর ২০২৬

​রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে এখন যেন সোনালী রঙের উৎসব চলছে। মাঠের পর মাঠ যতদূর চোখ যায়, কেবল সোনালী ফসলের সমারোহ। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে কৃষকের স্বপ্ন দুলছে বাতাসে, আর নতুন ধানের ঘ্রাণে ভরে উঠছে চারপাশ। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এবার আমনের বাম্পার ফলনের আশা করছেন এ অঞ্চলের প্রান্তিক চাষিরা।


​কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর বর্ষা মৌসুমের আগেই পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় আমন চাষে দ্রুত মাঠে নেমে পড়েন কৃষকেরা। কার্তিক মাসের মাঝামাঝি থেকে বরেন্দ্র অঞ্চলের কিছু কিছু এলাকায় অল্প পরিসরে ধান কাটা শুরু হয়েছে। অগ্রহায়ণ মাস পড়লেই পুরোদমে আমন কাটা-মাড়াই শুরু হবে।


​প্রতিকূলতা পেরিয়ে আশার আলো:-

চলতি মৌসুমে আমন রোপণের শুরুতেই নানা রোগবালাই এবং ইঁদুরের উপদ্রবে কিছুটা বিপাকে পড়েন চাষিরা। এছাড়া শেষ সময়ে বৃষ্টির অভাবেও কিছুটা বেগ পেতে হয়। তবে সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে এখন সোনালী ধানের মিষ্টি ঘ্রাণে বুকভরা আশা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন বরেন্দ্রের কৃষকরা। তানোর উপজেলার চুনিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস ১৫ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। তিনি জানান, মাঝামাঝি সময়ে পোকা ও ইঁদুরের আক্রমণ থাকলেও ধানের শীষ ভালো থাকায় এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন তিনি।


​লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অতিরিক্ত আবাদ:-

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭৬ হাজার ২২৪ হেক্টর জমিতে। তবে চাষাবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি, প্রায় ৭৭ হাজার ৫২৩ হেক্টর জমিতে। 

এছাড়া রাজশাহী অঞ্চলের রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। মাঠপর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এ অঞ্চলে এক শতক জমিও ফাঁকা রাখা হয়নি, প্রচুর পরিমাণে ধান চাষ হয়েছে যা দেশের খাদ্য ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


​উন্নত জাত ও কৃষি বিভাগের সহায়তা:-

তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, বরেন্দ্র অঞ্চলে আমনের শুরু থেকেই অনুকূল বৃষ্টিপাত হওয়ায় শতভাগ জমিতে চাষাবাদ সম্পন্ন হয়েছে। কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। চলতি মৌসুমে কৃষকেরা মূলত স্বর্ণা, একান্ন, ব্রি ধান৮৭ এবং বিনা ধান১৭ জাতের আবাদ বেশি করেছেন, যা পানি সাশ্রয়ী ও উচ্চ ফলনশীল।


​বাজারমূল্য নিয়ে সামান্য হতাশা:-

মাঠজুড়ে সোনালী ধানের পাকা শীষ দেখে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটলেও বাজারে ধানের বর্তমান দাম নিয়ে কিছুটা হতাশা কাজ করছে চাষিদের মনে। তবে বাম্পার ফলন সেই হতাশা কাটিয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




ছবি - বিজয় বাংলা