আর্কাইভ কনভাটার ঢাকা, সোমবার, মে ২৭, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
Logo

ঘূর্ণিঝড় রেমাল

logo

কালজয়ী ৭মার্চ

Eternal March 7


ওয়ালিউর রহমান বাবু প্রকাশিত:  ২৬ মে, ২০২৪, ০১:৫৯ এএম

কালজয়ী ৭মার্চ
কালজয়ী ৭মার্চ। সংগৃহীত ছবি

১৯৭১ সালের ৭মার্চ ছিল অন্য এক পরিবেশের। ১মার্চ সরকার পার্লামেন্ট স্থগিত করলে, সারা পূর্ব পাকিস্তান বিক্ষোভে সোচ্চার হয়ে উঠে। এর ধারাবাহিকতায় ৭মার্চ হয়ে গেল বিশ্ব ইতিহাসের কালজয়ী একটি দিন।

১মার্চ পাকিস্তান সরকার স্থগিত করলে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। সেদিন ঢাকার হোটেল ইডেনে আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টের সদস্যদের জরুরী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু। সর্বস্তরের মানুষ নানা স্লোগান দিয়ে মিছিল নিয়ে হোটেল ইডেনের সামনে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে নির্দেশ চাইলে তিনি বৈঠক স্থল থেকে বেরিয়ে এসে সকলকে ধৈর্য্য ধারণ করতে বলে কর্মসূচি দেন। অতি উৎসাহীদের তৎপরতা ছিল, এটা আগেই বুঝে ফেলেছিলেন বঙ্গবন্ধু। সব কিছু পর্যালোচনা করে তিনি সকলকে বলেন, ৭মার্চ রেসকোর্সের জনসভায় তিনি যা বলার বললেন। তিনি শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করতে নির্দেশ দেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ সরাসরি শোনার জন্য নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে পূর্বপাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে ছাত্র, তরুণ, যুবক, স্বেচ্ছাসেবক সহ অন্যান্যরা প্রস্তুুতি নিতে থাকে। পাশাপাশি চলে কর্মসূচি।

৭মার্চ সকাল থেকেই সবার মধ্যে নানা উৎকণ্ঠা ও উত্তেজনা। বঙ্গবন্ধু কি বললেন, পরিস্থিতি কি হবে এ নিয়ে অফিস, বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সর্বত্র নানা আলোচনা। বঙ্গবন্ধুর এই নির্দেশনা বেতার, টেলিভিশনে শোনার জন্য সেগুলি প্রস্তুত রাখা হয়। অনেকে বঙ্গবন্ধুকে নানা কথা বলার জন্য বললে বঙ্গবন্ধু ধিরস্থির হয়ে তাদের কথা শোনেন। কিন্তু তিনি কি বলবেন, সেটি  তিনি আগে থেকেই ভেবে রেখেছিলেন। দুপুরের খাবার শেষে সভা নিয়ে বঙ্গবন্ধু বেগম মুজিবের সাথে আলোচনা করলে, বেগম মুজিব তাকে বলেন, তিনি যেটা ভালো মনে করেন এবং সব দিক চিন্তা করেই তিনি যেন কথা বলেন।

দুপুর থেকেই লোকারণ্য হয়ে উঠে রেসকোর্স। আসতে থাকে বিভিন্ন স্তরের মানুষ। আওয়ামী করেন না, তারাও সরকারের অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে বঙ্গবন্ধুর কথা শোনার জন্য রেসকোর্সের দিকে এগোতে থাকেন। এমনকি কঠোর সরকার সমর্থকরাও সেখানে যান বলে শোনা যায়। অপেক্ষা বঙ্গবন্ধু কখন আসবেন। অতঃপর বঙ্গবন্ধু এলেন। দীপ্ত পায়ে উঠলেন মঞ্চে। অনেকে দিলেন চিরকুট, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নজর উপস্থিত সর্বস্তরের মানুষের দিকে। এদিক ওদিক তাকিয়ে পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে শুরু করলেন তার কথা। সভাস্থল থেকে দূরে অবস্থান নিয়ে বেগম মুজিব ও তাঁর কথা শুনলেন। অল্প সময়ে বঙ্গবন্ধু তাঁর দেয়া নির্দেশনায় আলোড়ন তুলে সবকিছু বলে দিলেন। ৭মার্চ বঙ্গবন্ধু তাঁর দিকনির্দেশনায় সকলকে মুহূর্ততের মধ্যে ঐকবদ্ধ্য করে ফেললেন। তাই রাজনীতি বিদদের ভাষায় এটি কালজয়ী। কবিদের ভাষায় এটি অমর কবিতা। তাঁর এই দিক নির্দেশনা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করল। অবশেষে তাঁর ৭মার্চের দিক-নির্দেশনা বিশ্ব নেতাদের দেয়া বক্তব্যের অন্যতম একটি হয়ে গেল।

" target="_blank">

লেখক মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রাহক, রাজশাহী।

google.com, pub-6631631227104834, DIRECT, f08c47fec0942fa0