আর্কাইভ কনভাটার ঢাকা, বুধবার, জুন ১৯, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
Logo

logo

স্বাধীনতা দিবস ঘিরে বিএনপির ৩ দিনের কর্মসূচি

3 day program of BNP


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত:  ১৪ জুন, ২০২৪, ০৬:০২ এএম

স্বাধীনতা দিবস ঘিরে বিএনপির ৩ দিনের কর্মসূচি
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে দলের স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে কমিটির আহ্বায়ক ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তিনদিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছেÑ ২৬ মার্চ ভোরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাতটায় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশ্যে যাত্রা এবং সেখানে পুষ্পমাল্য অর্পণ, সাভার থেকে ঢাকায় ফিরে শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ।

এ ছাড়া ২৫ মার্চ সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ এবং ২৭ মার্চ বেলা ১১টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনাসভা। সারাদেশে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও  ইউনিয়ন পর্যায়ের সকল কমিটি এবং দলের অঙ্গ সংগঠনগুলোকে স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে পোস্টার প্রকাশ ও জাতীয় দৈনিকে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপি স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের দল। স্বাভাবিকভাবে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের দল সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়ে মহান স্বাধীনতা দিবসকে উদ্যাপন করতে চায়। তিনি বলেন, একাত্তরের যুদ্ধ ছিল গণতন্ত্র অর্জনের যুদ্ধ। আজকে তো দেশে গণতন্ত্র নাই, মানুষের মৌলিক অধিকার নাই, বাক স্বাধীনতা নাই, সংবাদপত্রের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নাই। পাঠ্যপুস্তকে বীরদের কথা লিখিত নাই।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে। আমরা বিএনপির তরফ থেকে ও মুক্তিযোদ্ধাদের তরফ থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধে যাদের অবদান রয়েছে তাদের অবদানকে প্রদীপের আলোয় আনার চেষ্টা করব। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ছাত্র-যুবকদের সিটিজেন আর্মির প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে জানিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকে একটি জিনিসে আমরা শঙ্কিত।

ধীরে ধীরে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শক্তিসমূহের সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে মিয়ানমারের যুদ্ধের পর মিয়ানমারে এখন অভ্যন্তরীণ সংগ্রাম চলছে যাতে বাইরের শক্তিগুলো ইনভলবড (সম্পৃক্ত)। ধীরে ধীরে বাংলাদেশকেও এক সময় হয়ত আন্তর্জাতিক চাপে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হতে পারে। তাই যুবকদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

হাফিজ উদ্দিন বলেন, ছাত্র-যুবকদের দক্ষিণ কোরিয়া, ইসরাইল ও অন্যান্য দেশের মতো সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের সিটিজেন আর্মি করতে হবে। ভবিষ্যতে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব কখনো বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয় সারাদেশের সাধারণ মানুষ যাতে প্রতিরোধ করতে পারে, সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি যাতে ছাত্র-যুবকরাও সংগ্রামে যুক্ত হতে পারে সেজন্য বিএনপি উদ্যোগ গ্রহণ করবে, যদি আমরা আগামীতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাই। 

হাফিজ বলেন, আমরা কোনো নির্জীব জাতি নই। বাঙালি যে সাহসী একটি জাতি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আমরা তার প্রমাণ দিয়েছি। আগামী দিনগুলোতে আমাদের আবার নতুন করে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য, বিদেশী শক্তির হাত থেকে দেশবাসীকে মুক্ত রাখার জন্য, চিন্তার স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা অর্জনের জন্যে হয়ত ভূমিকা রাখতে হবে। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা অভিহিত করে তার ওপর সরকারের মামলা দায়ের, সাজা প্রদান এবং  নির্যাতনের সমালোচনা করেন হাফিজ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন বলেন, এবারের স্বাধীনতা দিবসটি আমাদের জন্যে এই কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, স্বাধীনতার এত বছর পরেও আমরা মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করতে পারিনি। তাই  বিএনপি এই সংগ্রামে নেতৃত্ব দেবে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে বিএনপি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা দল হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাস্তবায়িত করবে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের সুফল জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে পারব।

বিএনপির স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন কমিটির সভা ও  সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন কমিটির সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী, সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বিলকিস জাহান শিরিন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, সাখাওয়াত হাসান জীবন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মুক্তিযোদ্ধা দলের  নেতা জয়নাল আবদীন, সৈয়দ ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক খান, ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা ইশরাক হোসেন, তানভীর আহমেদ, শ্রমিক দলনেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, আনোয়ার হোসাইন, মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু, যুবদলের নেতা রুহুল আমিন আকিল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কামরুজ্জামান বিপ্লব, মৎস্যজীবী দলের  নেতা আবদুর রহিম, মহিলা দলের নেতা সুলতানা আহমেদ, তাঁতী দলের নেতা আবুল কালাম আজাদ, মজিবুর রহমান, জাসাসের নেতা লিয়াকত আলী, জাকির হোসেন জাকির, ছাত্রদলের নেতা রাবিকুল ইসলাম রাকিব, নাছির উদ্দীন নাছির প্রমুখ। 

দুই নেতাকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় ফখরুলের উদ্বেগ ॥ দুই নেতাকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে  তিনি বলেন, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান এবং দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নি¤œ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়। তিনি অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারসহ নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।  

ফখরুল বলেন, দেশটা এখন মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে। ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারী আওয়ামী লীগ শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা ধরে রাখতে দেশব্যাপী প্রতিদিনই বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নানা কায়দায় অবর্ণনীয় নির্যাতন-নিপীড়ন শুরু করেছে। অব্যাহত গতিতে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করে বিরোধী নেতাকর্মীদের পর্যুদস্ত ও নাজেহাল করা হচ্ছে। আর এ ধরনের অপকর্ম সাধনের একমাত্র উদ্দেশ্যই হচ্ছে  দেশের বিরোধী দলগুলো যেন সরকারের স্বৈরাচারী আচরণের সমালোচনা করতে সক্ষম না হয়।

google.com, pub-6631631227104834, DIRECT, f08c47fec0942fa0