আর্কাইভ কনভাটার ঢাকা, শনিবার, জুন ১১০, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
Logo

logo
তীব্র ভারত বিরোধিতা

শাল পুড়িয়ে ফেলার পর সুসম্পর্ক স্থাপনে নতুন করে চেষ্টা বিএনপির

BNP's new attempt to establish good relations


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত:  ১৪ জুন, ২০২৪, ০৯:১৪ পিএম

শাল পুড়িয়ে ফেলার পর সুসম্পর্ক স্থাপনে নতুন করে চেষ্টা বিএনপির
ভারতীয় শাল পুড়িয়ে ফেলার পর সুসম্পর্ক স্থাপনে নতুন করে চেষ্টা বিএনপির

মাঝখানে তীব্র ভারত বিরোধিতা, বিএনপির একজন নেতার ভারতীয় শাল পুড়িয়ে ফেলার ঘটনার পর আবার বিএনপি অবস্থান পরিবর্তন করেছে। এখন ভারতের সঙ্গে একটিই সুসম্পর্ক স্থাপন করার জন্য নতুন করে চেষ্টা শুরু করেছে বিএনপি। দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে যে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে টানা আলোচনা হয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেছেন, টানা ৩ দিন প্রায় ১২ ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে ভারত প্রসঙ্গে এবং সেখানে রুহুল কবির রিজভীর ভারতীয় পণ্য বর্জনের আহ্বান এবং পণ্য পোড়ানোর ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। যদিও এই রিজভীর এই সিদ্ধান্ত বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত নয় বলে বলা হয়েছে। তবে ওই বৈঠকে সুনির্দিষ্ট ভাবে বিএনপির ভারত নীতি পর্যালোচনা করা হয় এবং ভারত নীতির বিষয়ে পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। 

একাধিক সূত্র বলছে, বিএনপি তাদের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ভারত নীতির পাঁচটি আঙ্গিক নির্ধারণ করেছে এবং এর আলোকে কার্যক্রম পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

প্রথমত, বিএনপির সব সময় মনে করে বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম দেশ এবং এই সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যারা হুমকি, যারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে বিএনপি তাদের ব্যাপারে সব সমালোচনা করবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বিএনপির প্রধান শক্তি। এই কারণে এটি ভারত হোক বা অন্য দেশই হোক বাংলাদেশে যারা আকর্ষণ বা আধিপত্য করবে তাদের বিরুদ্ধে বিএনপি সবসময় তাদের বক্তব্য এবং প্রতিবাদ সোচ্চার রাখবে। 

দ্বিতীয়ত, ভারত বাংলাদেশের বন্ধু। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশাল সীমান্ত বেষ্টনী রয়েছে। ভারতের সঙ্গে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক থাকা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সীমান্ত হত্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ভারতের মনোভাবের ব্যাপারে বিএনপি সুনির্দিষ্ট সমালোচনা করবে বলে বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএনপি মনে করে যে, সীমান্ত হত্যা বন্ধ সহ বাণিজ্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা না করা গেলে ভারতের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ এবং মর্যাদাপূর্ণ বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকবে না। আর এ কারণেই বাণিজ্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধের বিষয় নিয়ে ভারতের সঙ্গে যে দর কষাকষি বাংলাদেশের স্বার্থে বিএনপি সেটি করবে এবং এ ব্যাপারে বিএনপির বক্তব্য অবস্থান পরিষ্কার থাকবে। 

তৃতীয়ত, বিএনপি কোনভাবেই একটি দেশের পণ্য বর্জন বা একটি দেশের পণ্য পুড়িয়ে দেওয়ার নীতিতে বিশ্বাসী নয়। কাজেই ভারতীয় পণ্য বর্জন বা ভারত হটাও জাতীয় কোনো কর্মসূচি বিএনপি গ্রহণ করবে না। এ ধরনের কর্মসূচি যারা পালন করছে তাদের ব্যাপারেও বিএনপি দূরত্ব রাখবে। তাদেরকে সমর্থন দেবে না। কারণ বিএনপি একটি প্রধান রাজনৈতিক দল। এ ধরনের পণ্য বর্জন বিষয়ে তাদের কোন আগ্রহ নেই এবং এটি করা উচিত হবে না বলে বিএনপি মনে করে। 

চতুর্থত, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে অবশ্যই সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চায় বিএনপি। আর এই কারণে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গঠন করা হয়েছে। যারা বিএনপির পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে কথা বলবে, বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারত যে ভুল এবং অযৌক্তিক তথ্যগুলো নিচ্ছে সেই ভুল তথ্যগুলো ব্যাপারে তাদেরকে অবহিত করবে। বিএনপি পক্ষ থেকে যে প্রতিনিধি দল থাকবে তাদের মধ্যে রয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন এবং আবদুল আওয়াল মিন্টু। তারা ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের প্রকৃত অবস্থা এবং অজনপ্রিয় দলকে সমর্থনের ফলে বাংলাদেশে যে ভারত সম্বন্ধে জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে সে সম্পর্ককে অবহিত করবে।

পঞ্চমত, বিএনপি ভারতের নির্বাচনকে গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সেখানে একটি গণতান্ত্রিক ধারায় দমন নিপীড়ন ছাড়াই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যেন নতুন সরকার আসে সেটি বিষয়টি নিয়ে বিএনপি প্রত্যাশা করে এবং সেদিকে বিএনপি নজর রাখছে। এই ভারত নীতি নিয়ে বিএনপি আগামী দিনগুলোতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করবে বলে বিএনপির সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

google.com, pub-6631631227104834, DIRECT, f08c47fec0942fa0