আর্কাইভ কনভাটার ঢাকা, রবিবার, এপ্রিল ২১, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

New controversy in BNP

জামায়াত কে নিয়ে ঐক্য গড়লে দল ছাড়বেন ফখরুল

Bijoy Bangla

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ এপ্রিল, ২০২৪, ০৭:২৭ পিএম

জামায়াত কে নিয়ে ঐক্য গড়লে দল ছাড়বেন ফখরুল
জামায়াত কে নিয়ে ঐক্য গড়লে দল ছাড়বেন ফখরুল। __সংগৃহীত ছবি

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য নিয়ে বিএনপিতে নতুন করে বিরোধ এবং অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী ফ্যাসিস্ট এই অপশক্তির সঙ্গে নতুন করে ঐক্য করার চিন্তাভাবনা করছে বিএনপি। শুধু চিন্তাভাবনা নয়, জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির একাধিক বৈঠকের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের প্রকাশ্য রূপ আবার দেখা গেছে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে। ঐদিন জামায়াত আয়োজিত পার্টিতে বিএনপি দুই ডজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। স্থায়ী কমিটির একাধিক শীর্ষ নেতার সহ বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত হয়ে বিএনপি-জামায়াত সম্পর্ককে যেন নতুন করে স্বীকৃতি দিয়েছেন। আর এই ঘটনাটি বিএনপির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। 

আন্তর্জাতিক মহল থেকেও প্রশ্ন উঠেছে যে, জামায়াতের সঙ্গে যদি বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে বিএনপি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসাবে কতটুকু স্বীকৃত হবে? এই ধরনের ঐক্য বিএনপির প্রতিশ্রুতির সঙ্গে কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ? সেই বিষয়টি নিয়েও কথা উঠেছে। উল্লেখ্য যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো বিএনপিকে সবসময় জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এবং সংগ্রাম না করার জন্য পরামর্শ দিয়ে আসছিল। সেই পরামর্শের কারণেই ২০১৪ সালের পর থেকে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি একটি দূরত্ব তৈরি করে। আনুষ্ঠানিকভাবে ২০ দল বিলুপ্ত হয়ে যায়। 

জামায়াতের পক্ষ থেকেও বলা হয় যে, ২০ দলীয় জোটের অস্তিত্ব এখন আর নেই। কিন্তু এরকম ঘটনার পর আবার নতুন করে ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক লক্ষ করা যাচ্ছে। বিএনপিতে কয়েকজন ভারত বিরোধিতার জিগির তুলেছে এবং ভারতবিরোধী স্লোগান দিয়ে ভারতীয় পণ্য বর্জনের আহ্বান জানাচ্ছে। 

ধারণা করা যাচ্ছে যে, এই ধরনের উদ্যোগের পেছনে জামায়াতের হাত রয়েছে। বিএনপি যখন তীব্র ভারত বিরোধিতা শুরু করেছে তখনই জামায়াত বিএনপির কাছে এসেছে। এর দু রকম ব্যাখ্যা দেওয়া যেতে পারে। একটি ব্যাখ্যা হল যে, জামায়াতের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে বিএনপি এখন ভারত বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেছে। আবার অন্য রকম ব্যাখ্যা হল যে, বিএনপির এই ভারত বিরোধী অবস্থানে জামায়াত খুশি হয়ে তারা আবার কাছে এসেছে। 

যে কারণেই হোক না কেন, সাম্প্রতিক সময় জামায়াত এবং বিএনপির ঘনিষ্ঠতার তিনটি প্রমাণ পাওয়া গেছে। একটি হল বিভিন্ন উপজেলায় জামায়াত বিএনপির প্রার্থীদেরকে সমর্থন দিচ্ছে এবং যেখানে যেখানে তাদের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে সেখানে জামায়াত নির্বাচন করছে, বিএনপির কোনো প্রার্থী থাকছে না। অর্থাৎ সেই পুরনো নির্বাচনী সমঝোতার মডেলে ফিরে গেছে জামায়াত এবং বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে। 

দ্বিতীয়ত যে বিষয়টি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সেটি হলো ইফতার পার্টিতে এখন জামায়াতের নেতাদের পাশে প্রকাশ্যে দাঁড়াচ্ছেন বিএনপির নেতারা। আর এর ফলে তাদের পুরনো ঐক্য আবার নতুন করে চাঙ্গা হয়েছে। আর তৃতীয়ত, বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির ব্যাপারে জামায়াত সাম্প্রতিক সময়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে যায় বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের এই সম্পর্কটা নতুন রুপ নিয়েছে। কিন্তু এই নতুন রূপ নেওয়াটা বিএনপির সব নেতারা পছন্দ করে। বিশেষ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তীব্র জামায়াত বিরোধী হিসেবে পরিচিত। অনেকে মনে করেন জামায়াতের সঙ্গে দূরত্বের সৃষ্টির পিছনে বা সম্পর্কের অবনতির পিছনে মির্জা ফখরুল ইসলামের হাত রয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই প্রথম ব্যক্তি যিনি জামায়াতের সঙ্গে প্রকাশ্যে ঐক্যের বিরোধীতা করেছিলেন। আর এই বিরোধীতা করার কারণে তিনি ২০ দলকে অকার্যকর করেছিলেন। এখন যখন জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি নতুন করে ঐক্য করছে তখন মির্জা ফখরুল তীব্র বিরোধীতা করছেন। গতকাল তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, জামায়াতের সঙ্গে যদি বিএনপি আবার ঐক্য করে তাহরে তিনি বিএনপি করবেন না। উল্লেখ্য যে, জামায়াত আয়োজিত ইফতার পার্টিতে মির্জা ফখরুল উপস্থিত ছিলেন না। এখন দেখা যাক জামায়াত না ফখরুল কাকে গ্রহণ করে বিএনপি।

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

google.com, pub-6631631227104834, DIRECT, f08c47fec0942fa0