আর্কাইভ কনভাটার ঢাকা, মঙ্গলবার, জুন ২১০, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
Logo

Myanmar junta

আন্তর্জাতিক স্কুলে যে নিয়ম পালনের নির্দেশ দিলো

Bijoy Bangla

অনলাইন ডেস্ক:

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪, ০৪:০৮ পিএম

আন্তর্জাতিক স্কুলে যে নিয়ম পালনের নির্দেশ দিলো
.....সংগৃহীত ছবি

দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত পরিস্থিতির মধ্যেই মিয়ানমারের বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক স্কুলগুলোকে নতুন নির্দেশ দিয়েছে জান্তা। সামরিক সরকার চায়, সরকারি স্কুলগুলোর মতো মিয়ানমারের বেসরকারি স্কুলগুলোতেও যেন প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের প্রভাত সমাবেশ, পতাকা উত্তোলন এবং দেশটির জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়।

জান্তা নিয়ন্ত্রিত সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. নিউন্ত পে শুক্রবার মিয়ানমারের বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে তিনি জানান, জান্তাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং মিয়ানমারের বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সব স্কুলে প্রতিদিন প্রভাত সমাবেশ, মিয়ানমারের পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত মে মাসে একটি আইন প্রণয়ন করেছিল সামরিক সরকার। ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইন’ নামের সেই আইনটিতে দেশটির বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক স্কুলকগুলোতে নিয়মিত পতাকা উত্তেলন ও জাতীয় সংঙ্গীত গাওয়ার এবং বার্মিজ ভাষা শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।

তবে আইন প্রণয়ন করলেও এত দিন সেটি বাস্তাবায়নে তেমন মনোযোগ দেয়নি জান্তা প্রশাসন। গত সপ্তাহে এক কর্মসূচিতে জেনারেল মিন অং হ্লেইং অবশ্য আইনটি বাস্তবায়নের আভাস দিয়েছিলেন।

বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনে মিয়ানমারের অন্যতম জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী ইয়াং মেন’স বুড্ডিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘মিয়ানমরের জনগণ ও বৌদ্ধ ধর্ম রক্ষায় তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসা উচিত। কিন্তু তার পরিবর্তে তরুণ প্রজন্মের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিধ্বংসী তৎপরতায় উৎসাহী হচ্ছে এবং পিপলস ডেমোক্রেটিক ফোর্সের (পিডিএফ) মতো দেশবিরোধী-সন্ত্রাসী সংগঠনে জড়িয়ে পড়ছে। এটি খুবই উদ্বেগজনক।’

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের সাধারণ জনগণের মধ্যে দেশটির ক্ষমতা কাঠামোর কেন্দ্রে অবস্থান করার সামরিক বাহিনীর গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস পাচ্ছিল গত কয়েক দশক ধরেই। তবে তা শূণ্যের কোঠায় পৌঁছায় ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর। ওই বছর ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্রপন্থী সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে সামরিক বাহিনী। জেনারেল মিন অং হ্লেইং সেই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী জনগণ প্রথমে সেই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছিল, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভও চালিয়ে যাচ্ছিল; কিন্তু জান্তা বাহিনী শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দমনে প্রাণঘাতী মারণাস্ত্র ব্যবহার শুরু করার পর তরুণ প্রজন্মের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যোগ দেয় জান্তাবিরোধী বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীতে।

সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমারের অভিভাবকদের একটি বড় অংশ জান্তা সরকার পরিচালিত স্কুলগুলোতে নিজেদের সন্তানদের ভর্তি করানো বন্ধ করেন। অনেকে তাদের সন্তানদের সরকারি স্কুল থেকে ছাড়িয়ে এনে বেসরকারি স্কুলগুলোতে ভর্তি করানো শুরু করেন।

গত নভেম্বর থেকে মিয়ানমার জুড়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাত তীব্র হয়েছে সামরিক বাহিনীর। ইতোমধ্যে দেশের অন্তত ৪০টিরও বেশি শহরের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হারিয়েছে জান্তা।

মিয়ানমারের একাধিক রাজনীতি বিশ্লেষক এবং বেসরকারি স্কুলের কর্তৃপক্ষ বলেছেন, জান্তার মধ্যে এই ভীতি-সংশয় ঢুকেছে যে বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মনে দেশের সামরিক বাহিনী এবং ক্ষমতাসীন জান্তার বিরুদ্ধে ‘বিষ’ ঢোকানো হচ্ছে। এ কারণেই ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইন’ বাস্তবায়নে এত ব্যস্ত হয়ে উঠেছে জান্তা।

সূত্র : ইরাবতী নিউজ

বিবিএন/২৪ফেব্রুয়ারী/ অচ


google.com, pub-6631631227104834, DIRECT, f08c47fec0942fa0