Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Thursday , ২৫ জানুয়ারি ২০২৪ | ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন

বদলগাছীতে জাল স্বাক্ষরে চুক্তিনামা তৈরী করে গভীর নলকূপ স্থাপন

সৈকত সোবাহান, (বদলগাছী) ২৫ জানুয়ারি ২০২৪

নওগাঁর বদলগাছীতে জাল স্বাক্ষরে চুক্তিনামা করার অভিযোগ উঠেছে কোলা বিজলি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুজাউল ইসলাম কুদ্দুস নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি হাজী আবুল কাশেম সরদার নামের এক ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করে গভীর নলকূপ স্থাপনের একটি চুক্তিনামা তৈরী করেছেন যা ব‍্যবহার করে  গভীর নলকূপ স্থাপণ করেন এবং  এলাকার কৃষকদের সেচের নামে জিম্নি করে নির্যাতন করেছেন।

এমন জালিয়াতির বিষয়টি জানতে পেরে গত বুধবার (২৪ জানুয়ারি) উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন ভূক্তভোগী হাজী আবুল কাশেম। এসময় তার সাথে প্রায় অর্ধশতাধিক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিকার চাইতে আসা হাজী আবুল কাশেম অভিযোগ করেন,  একটি দেড়শ টাকার স্ট্যাম্পে প্রথম পক্ষ আবুল কাশেম সরদার এবং দ্বিতীয় পক্ষ সুজাউল ইসলাম (কুদ্দুস) নামে একটি চুক্তিনামায় দেখা যায়, উপজেলায় শ্যমাহার মৌজায় জে-এল নং-১৫০, খতিয়ান নং হাল-১৫২, হাল-১১২ নং দাগে ১৯৬ শতক জমি আছে প্রথম পক্ষ আবুল কাশেমের নামে।

সেই জমির ১০শতাংশের উপর দ্বিতীয় পক্ষ এলাকার কৃষকের স্বার্থের কথা চিন্তা করে প্রথম পক্ষ সুজাউল ইসলামকে সেচ কাজ পরিচালনা করার জন্য গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়। সেই মোতাবেক দ্বিতীয় পক্ষ গত ২০১৫সালের ১ জানুয়ারি বিশ বছরের জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন করেন। এবং দ্বিতীয় পক্ষ চাইলে আজীবন সেচকাজ পরিচালনা করতে পারবেন বলে উল্লেখ করা হয় চুক্তিনামা পত্রে।


এক্ষেত্রে প্রথম পক্ষের উক্ত পরিমাণ সম্পত্তির বাৎসরিক পানির ভাড়া দ্বিতীয় পক্ষকে দিতে হবেনা। যেটা জমির ভাড়ার মধ্যে কেটে দেওয়া যাবে বলেও উল্লেখ করা হয় চুক্তিনামায়। কিন্তু বাস্তবে এধরনের কোনো চুক্তিনামা হয়নি বলে অভিযোগ করেন হাজী আবুল কাশেম সরদার। তাই প্রতিকার চাইতে গত বুধবার বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৃপ্তি কনা মন্ডল বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন। সঙ্গে এসেছিলেন প্রায় অর্ধশতাধিক এলাকাবাসী। 

উপজেলার কেশাইল গ্রামের মৃত কমর উদ্দীন সরদারের ছেলে হাজী আবুল কাশেমের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কোলা ইউনিয়নের কোলা গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে সুজাউল ইসলাম উপরোক্ত দাগের ১৯৬শতাংশ জমির এক পার্শ্বে গভীর নলকূপ স্থাপন সংক্রান্ত বিষয়ে আমার স্বাক্ষর জাল করে একটি চুক্তিপত্র করেছেন। কিন্তু এই রকম কোনো চুক্তিপত্রে আবুল কাশেম সরদার স্বাক্ষর করেননি। এবং ওই জায়গায় তাকে গভীর নলকূপ স্থাপনের কোনো অঙ্গীকারও করেননি আবুল কাশেম সরদার। তাই তার এইরকম জালিয়াতির বিচার চাই। 

আবুল কাশেম সরদারের ছেলে বকুল হোসেন বলেন, শ্যামাহার মৌজায় আমাদের কিছু জমি আছে। এলাকার পরিচিত হওয়ায় জীবিকা নির্বাহের জন্য মৌখিকভাবে বলেছিলেন শ্যালো মেশিন স্থাপন করে সেচ ব‍্যপারে।

এলাকার বিদ্যুৎ, আলতাফ হোসেন সরদার, শাহিন, মিলন হোসনে, সামছুল আলম, সাহাবুল ও ওমর ফারুকসহ প্রায় অর্ধশতাধিক লোক এসেছেন। বকুলের মতো অভিযোগে সুরে তারা সকলেই বলেন, সুজাউল ইসলাম পুরোপুরি মিথ্যে টাইপের লোক। তিনি মিথ্যের আশ্রয় বেশি নিয়েছেন।

তাদের অভিযোগ তিনি যে কতো মানুষের ক্ষতি করেছেন তার হিসেব নেই। এছাড়া পানির সরকারি রেটের চেয়ে তিনি কমপক্ষে এক হাজার টাকা করে বেশি নিয়েছেন প্রতি বিঘায়। তার নির্ধারণ করা টাকা না দিলে কৃষকদের হয়রানি ও মারধর করা হয়।

এছাড়াও ঐ গভীর নলকূপের আওতায় সকল জমি চাষ করতে অন‍্য কোন হাল বা চাষযন্ত্র দিয়ে চাষ করতে দেয় না। তার নিজের টিলার দিয়ে চাষ দিতে হবে। তার কথা না শুনলে ঐ কৃষক এবং ঐ চাষের ব‍্যক্তিকে নির্যাতন করেন।

এলাকার কৃষকরা আরও বলেন, আমরা সুজাউলের ডিপ থেকে পানি নিতে চাইনা। আমরা হাসনাত চৌধুরীর কাছ থেকে পানি নিতে চাই। এতোদিন তার ডিব ছিলো না। আজ পেয়েছি আমরা তার ডিপ টিউবওয়েলের পানি নিবো। 

সকল অভিযোগ অস্বীকার করে সুজাউল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, কাশেম সরদার সম্পর্কে আমার আত্মীয় (তাউই হয়)। সে চঞ্চল নামের এক ছেলেকে খুব বিশ্বাস করতো। এই চঞ্চলের মাধ্যমেই আমাকে জমির দলিল পর্যন্ত দিয়েছে কাশেম। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমাকে যদি অনুমতি না দিত, তাহলে আমি কিভাবে গভীর নলকূপ স্থাপন করতাম। আর গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য অফিসে একটা প্রমাণ দিতে হয়েছে। সেই জন্য কাশেম চঞ্চলসহ অনেকের সামনে স্বাক্ষর রেখেছেন। এটা তারই স্বাক্ষর। তবে তিনি আমাকে ওই পরিমাণ জমি রেজিস্ট্রি করে দেননি।

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৃপ্তি কণা মন্ডল বলেন, এই বিষয় নিয়ে বাদীর কাগজপত্র দেখে এবং কৃষকদের কথা শুনে হাসনাত চৌধুরীকে তার ডিপ টিউবওয়েলের কার্যক্রম চলাতে নির্দেশ দিয়েছি।


ছবি