নওগাঁর বদলগাছীতে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে রাতের আধারে জমি দখলের অভিযোগ। যে কোন সময় সংঘাতের আশংকা। ঘটনাটি ঘটেছে বদলগাছীর বিলাসবাড়ী ইউপির দুধকুরি গ্রামে।
গত ১৯শে জানুয়ারী শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় হঠাৎ মুকুল হোসেন, মুকুল হোসেনের ৩ছেলে,২মেয়েও মেয়েজামাই সহ প্রায় ১০ থেকে ১৫জন মিলে রাতেই বাশ ও টিন দিয়ে বেড়া দিয়ে জমিটি ঘিরে ফেলে বলে স্থানীয় লোকজন বলেন।
সরেজমিনে বদলগাছী উপজেলার বিলাসবাড়ী ইউপির দুধকুড়ি গ্রামে গিয়ে জানাযায়, ফসলি জমিটি টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরা। হঠাৎ ধানের জমিটি ঘেরার বিষয়টি নিয়ে চলছে আলোচনা ও সমালোচনা। আমন ধান কাটার পর জমিটি পড়ে ছিলো এখন বোরো ইরি ধান লাগানোর সময়। হঠাৎ কৃষি জমিটি ঘেরা নিয়ে এলাকায় ব্যপক আলোচনা চলছে। গ্রামবাসী বলছেন কয়েক দফা বসেও এর সমাধান হয় নি। সমাধান না হলে উভয়পক্ষকে শান্ত থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তুু হঠাৎ রাতের আধারে প্রতিপক্ষ মুকুল পরিবার জমিটি দখল নিয়ে এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানান।
স্থানীয় দুধকুরি গ্রামের শাহিন বলেন, কয় দিন আগেই এই জমিটি ফাঁকা ছিলো। হঠাৎ বেড়া দিয়ে ঘিরে নিয়েছে মুকুল হোসেন। জমিটি নিয়ে একই গ্রামের শহিদুল ইসলামের সাথে বিরোধ চলছিল। এই নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়। জমিটি ঘিরে ফেলায় উভয় পক্ষের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ ব্যপারে স্থানীয় গ্রামবাসী বলেন, উভয়েই জমিটির মালিকানা দাবী করলে উভয় পক্ষকে জমির কাগজপত্র দেখাতে বলা হয়। এই নিয়ে কয়েক দফা সালিস হয় এবং সালিসে সমাধান না হলে উভয়ে উকিলের পরামর্শ নেন। এতে উভয়কে বাড়াবাড়ি না করার জন্য উকিল পরামর্শ দেন। সেইসাথে যে জমি যার কাছে আছে সেই ভাবে রাখতে পরামর্শ দিয়েছিলেন।
ক্রয় সূত্রে জমির মালিক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি জমিটি মোজাফফরের মেয়ের কাছ থেকে ১৯৮৩ ক্রয় করে দীর্ঘ ৩যুগ ধরে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছি। হঠাৎ কয়েক বছর আগে মুকুল হোসেন জমিটির মালিকানা দাবী করে। জমিটির বিষয় নিয়ে কয়েক বার বসাও হয়েছিলো। সমাধান হয়নি। হঠাত মুকুল হোসেন রাতে আমার জমিটি দখল করে। আমি জমিটিতে চাষের জন্য বোরো ধানের চারা তৈরী করেছি।
বিবাদী মুকুল হোসেন বলেন, এই জমিটি আমার পিতা মোজাফফর হোসেন ১৯৬৮ সালে আমাকে দলিল করে দেন।দীর্ঘ ৩যুগ পর এসে আপনি জমির মালিকানা দাবী করছেন কেন এবং এই জমিটির ব্যপারে পূর্বে কেন দাবী করেন নি এব্যপারে জানতে চাইলে মুকুল হোসেন বলেন, গত ৪/৫ পূর্বে জানতে পারি জমিটি আমার নামে রেকর্ড রয়েছে। তাই জমিটি দখল করেছি।
এ ব্যপারে বদলগাছী থানা অফিসার ইনচার্জ মাহবুব আলম বলেন, এ ব্যপারে কোন অভিযোগ পাওয়া যায় নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।