Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news
৩০ জানুয়ারি ২০২৪
০৫:১১ পূর্বাহ্ন

সাবেক এমপি’র কারখানায় বেতন নেই চারমাস

শাহানুর রহমান রানা (রাজশাহী) SAKOATEX LIMITED

বিগত চারমাস যাবৎ বকেয়া বেতন না পেয়ে উর্দ্ধমূল্যের এইবাজারে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন কয়েকশ গার্মেন্টস শ্রমিক। রাজশাহী নগরীর বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় অবস্থিত একমাত্র পোশাক কারখানা সাকোয়াটেক্স লিমিটেডের শ্রমিকরা বেতন না পেয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন কান্নাজড়িত কন্ঠে। কারখানাটিতে কর্মরত রয়েছে প্রায় ৩০০ জন শ্রমিক।

কারখানাটির মালিক রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সাবেক তিনবারের এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রতীক না পেয়ে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হয়ে পরাজিত হন কাঁচি প্রতীক নিয়ে। শুধু রাজশাহীতেই না; রাজধানীতেও আছে একাধিক গার্মেন্টস ব্যবসা ও শিল্প কারখানা।

এছাড়াও বিভিন্ন শহরে আছে বড়সড় পরিসরের রিয়েল স্টেট ব্যবসাও। এককথায় ‘এনা গ্রুপ অব কোম্পানীর’ চেয়ারম্যান তিনি। বলা হয়ে থাকে, দেশের বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যদের মধ্যে তিনি অন্যতম একজন শিল্পপতি ও ব্যবসায়ি। 


দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ডামাডোল বেঁজে ওঠার প্রাক্কালে শ্রমিক-কর্মচারীরা কারখানার কর্তাদের কাছে বেতন চাইতে গেলে বলা হয়, কারখানার মালিক (এনামুল হক) নির্বাচন নিয়ে এখন খুব ব্যস্ত। ভোট পার হলে বেতন পাবেন। ততদিন কষ্ট করে চালিয়ে নেন। নির্বাচন শেষ। ফলাফল ঘোষণা শেষে নতুন মন্ত্রী পরিষদ গঠণের কাজও শেষ।

মন্ত্রীরা যে যার মতো দায়িত্ব বুঝে নিলেও পরাজয়ে গ্লানি থেকে এখনো অনেকেই বেড়োতে পারেনি। সাবেক এমপি এনামুল হকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকরাও সেই না পাওয়া ‘বেতন-ভাতা’র’ গ্লানি আর গোলকধাঁধার মধ্য থেকে বেড়োতে পারছেনা পরাজিত হওয়া প্রার্থীদের মতোই বলে মন্তব্য ভুক্তভোগীদের। 

উর্দ্ধমূল্যের এই বাজারে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বেতনহীন এই শ্রমিকদের। পিয়ারা বেগমের মতো সম্পা খাতুনসহ নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই নিজেদের প্রাত্যহিক ও সাংসারিক দেন্যদশার কথা জানান প্রতিবেদককে। কোন উপায়ন্তর না পেয়ে শ্রমিকরা বকেয়া বেতন আদায়ে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার (২৪ ও ২৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে কারখানার ভেতরে অনশন শুরু করে। এই কনকনে ঠান্ডায় সারা রাত তাঁরা কারখানার ভেতরেই ছিলেন।

শ্রমিকেরা জানান, এই কারখানায় কেউ তিন মাস, কেউ আট মাস ধরে বেতন পাননি। তাঁদের বাড়িভাড়া বাকি পড়েছে, ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কেউবা নতুন ক্লাসে ভর্তি করাতে পারেননি স্কুল পড়ুয়া সন্তানদেরকে। বকেয়া বেতন না পেলেও চাকুরি বাঁচাতে বাধ্য হয়েই কাজ করতে হচ্ছে শ্রমিকদেরকে। বকেয়া বেতন চাইতে গেলে কারখানার কর্মকর্তারা দুর্ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ অনেক।। যাঁরা বেতন চান, তাঁদের নামের তালিকা করা হয়।


কারখানায় ঢুকতে দেওয়া হয় না প্রতিবাদকারীদের। সম্প্রতি এভাবে ১৫ থেকে ২০ জনকে চাকরি থেকেও ছাঁটাই করা হয়েছে বলেও জানান অনেকেই। শ্র্রমিকেরা অভিযোগ করেন, কারখানায় তাঁরা বেতনের দাবিতে অবস্থান নেবার সময় পুলিশ এনে মহড়া দেওয়া হয়। পুলিশও কারখানার পক্ষ নিয়েই কথা বলে। আন্দোলনের জন্য অবস্থান নিলে লাঠিপেটা করে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয় দায়িত্বরত কর্তারা বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগী শ্রমিকদের।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সায়োকাটেক্স সুয়েটার ফ্যাক্টরির ভেতর প্রবেশ করতে দেয়নি দায়িত্বরত গার্ড।  দায়িত্বরত কর্মকর্তার মোবাইল নাম্বার চেয়েও পাওয়া যায়নি। অবশেষে সেলফোন নাম্বার জোগাড়া করে ম্যানেজার সজলের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি নানারকম টালবাহান করে বলেন, চলতি মাসের বেতন এখনো দেয়া হয়নি।

বকেয়া বেতনে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগগুলো মিথ্যা। শ্রমিকদের কাজের উপর নির্ভর করে তাদরে দেনা পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকরা জানান, বকেয়া বেতনের একাংশ (চারভাগের একভাগ) আমাদেরকে দিয়ে পুণরায় ফাক্টরিতে কাজ করতে বলছে। চাকুরি বাঁচানোর জন্য আমরা বাধ্য হয়ে আবারো কাজে যোগদান করছি। কবে নাগাদ বকেয়া বেতন পাবো সে সম্পর্কে আমরা জানিনা।


© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news