রাজশাহী জেলা সদরে ১৯১০ সালে তৈরি দেশের প্রথম ও অন্যতম গবেষণা জাদুঘর “বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর এখন শুধু ভ্রমন পিপাসু কিংবা গবেষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ স্থান নয়। এখন এই জাদুঘর শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থীদের প্রিয় একটি স্থান।
এখানে আছে নিরাপত্তা নানা ফুলের সমারোহ যা অন্যরকম পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। শিশু কিশোররা এখানে এসে আনন্দিত হয়ে উঠে বিশেষ করে শিশুদের কৌতুহলের শেষ থাকে না। দিন দিন এখানে শিশুদের উপস্থিতি বাড়ছে। বৃহস্পতিবার জাদুঘরের ছুটির দিন। অন্যদিন সকাল ১০টা থেকে ৪.৩০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শুক্রবার জুম্মার নামাজের বিরতির পর জাদুঘরটি খোলা থাকে। শীত ও গরমের সময় জাদুঘর খোলা রাখার সময় কিছুটা পরিবর্তন হয়। দর্শনীফি ২০ টাকা, ১০ বছর পর্যন্ত শিশুদের কোন দর্শনী ফি লাগে না। জাদুঘরটি জন বান্ধব করতে কর্তৃপক্ষ নানা পরিকল্পনা করেছেন।
এটি বাস্তবায়ন হলে জাদুঘর অন্যরূপে সাজবে । এ পরিকল্পনার শিশু কিশোরদের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। জাদুঘরটি পরিচালিত হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফলে কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বলা যেতেই পারে, সরকারি সহযোগিতা ও স্থানীয় প্রসাশনের সহযোগিতা পেলে জাদুঘরটি আরও রূপময় হয়ে উঠবে । যারা জাদুঘরটি পরিদর্শন করেছেন বা করবে নতাদের বলছি, শুধু নিজে নয় এখানে আসুন বন্ধু-বান্ধব পরিবার-পরিজন নিয়ে। সুন্দর পরিবেশে আপনার সময় কাটবে আরও সুন্দরভাবে। দেশের গর্ব বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরকে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরুন।
শিশু কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষদের জাদুঘর পরিদর্শন করতে উৎসাহিত করুন। আপনার কাছে এমন কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা সমগ্রী থেকে থাকে আপনি জাদুঘর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করতে পারেন। রাজবংশের সন্তান কুমার শরৎ কুমার রায়, ইতিহাসবিদ অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, শিক্ষাবিদ রমা প্রসাদ চন্দ্র এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। তাদের স্মরণ না করলেই নয়। প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে পরে নানা ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় এই প্রতিষ্ঠানটি আজ ইতিহাস খ্যাত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
লেখক-তথ্য সংগ্রাহক সমাজ ও সাংস্কৃতিক কমী