Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
অনলাইন ডেস্ক | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
bijoybangla.news
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক

ভোটের মাঠে বাড়ছে সংঘর্ষ ঝরছে রক্ত পড়ছে লাশ বাড়ছে গণআতঙ্ক

আবুল কালাম আজাদ: Dead bodies are increasing public panic

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তপ্ত নির্বাচনি মাঠ।ক্রমশোধ  ভোটের মাঠে  বাড়ছে সংঘর্ষ, ঝরছে রক্ত,  পড়ছে লাশ, ও বাড়ছে গণআতঙ্ক।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে।।আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরুর পর সেই উত্তেজনা এখন অনেক জায়গায় সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। জনসভা, গণসংযোগ ও প্রচারণাকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, হামলা ও প্রাণহানির ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।

★রক্তাক্ত নির্বাচনী মাঠ:-

গত ২৮ জানুয়ারি শেরপুরের শ্রীবরদীতে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হন। একই দিনে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে গাজীপুর-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আলী নাছের খানের ওপর গাড়িচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে এনসিপি। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় এনসিপির গাজীপুর জেলা সদস্যসচিব আল আমিন আহত হয়েছেন।

★বাড়ছে সহিংসতা:-

সূত্র বলছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে ১লা ফেব্রুয়ারি  পর্যন্ত চারটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডসহ অন্তত ১৪৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শেরপুর, গাজীপুর ও ময়মনসিংহে প্রাণহানির ঘটনাগুলো জনমনে বড় ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বেশিরভাগ সংঘর্ষ ঘটছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও বিদ্রোহী সমর্থকদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে।

পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য:-

রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ৪টি,সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ৫৫টি,

প্রার্থীর ওপর হামলা ৬টি,ভীতি প্রদর্শন ও আক্রমণাত্মক আচরণ ১১টি,নির্বাচনিনপ্রচারে বাধা ১৭টি,নির্বাচনী অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগ ৮টি,অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার ২টি,সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ১টি,হুমকি-ভয়ভীতি ৬টি,

অবরোধ-বিক্ষোভ ১০টি, ও অন্যান্য: ২৪টি।

এছাড়া মোট সহিংসতার ঘটনা ১৪৪টি, যার মধ্যে ২৫টি জেলা ও তিনটি মহানগরে ঘটে।

সহিংসতায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি, জাসাস নেতা ফরিদ সরকার, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক মো. নজরুল ইসলাম এবং জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিম।

★হটস্পট :-

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুর জেলা সবচেয়ে বেশি সংঘাতপ্রবণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, হোমনা ও সদর উপজেলায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও প্রার্থীর বহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। দলীয় অফিস ও সমর্থকদের বাড়িতেও হামলার অভিযোগ রয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণকে কেন্দ্র করে একাধিক দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। নারীকর্মীদের বাধা দেওয়া ও প্রচারণা ঠেকানোর ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়া পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও কক্সবাজারসহ অন্তত ১৫টি জেলায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। কোথাও ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার, কোথাও প্রার্থীর বাসায় কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হত্যার হুমকির ঘটনাও সামনে এসেছে।

★আশঙ্কা:-

অপরাধ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, সংঘাত ও টার্গেট কিলিংয়ের ঝুঁকি তত বাড়বে। বিশেষ করে লুট হওয়া অস্ত্র এখনো পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়ায় ঝুঁকি বাড়ছে। নির্বাচনের আগে বিদ্রোহী প্রার্থী ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকার তাগিদ দেন তিনি।

তবে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ নুরল হুদার মতে, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি জোরদার করা গেলে বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব।

★উদ্ধার:-

নির্বাচনি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান চালাচ্ছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ১ লা ফেব্রুয়ারি  পর্যন্ত ১ হাজার ৫০৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১৫৩টি অস্ত্র ও ১ হাজার ৮৩৪টি গোলাবারুদ।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, নির্বাচনী মাঠে আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এমন আশ্বাসের পরও নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার এসব ঘটনায় সুষ্ঠু ভোট পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে।


© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news